রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ০৮:৫৩:২৪

পারভেজ মোশাররফের প্রেমিকা সেই নারী এখন থাকেন বাংলাদেশে

পারভেজ মোশাররফের প্রেমিকা সেই নারী এখন থাকেন বাংলাদেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিতর্কিত এবং আলোচিত চরিত্র পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের মৃত্যু হলো ৭৯ বছরে। ব্যক্তিগত জীবনে কেমন ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং সেনাপ্রধান? 

কেমন ছিল তার প্রেমজীবন? সে কথা নিজেই আত্মজীবনীমূলক বইতে লিখে গিয়েছেন মোশাররফ। সেখানেই বলেছেন এক বাঙালি কন্যার সঙ্গে তার প্রেমের কাহিনি।

২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসক ছিলেন জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। ২০০৬ সালে তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘ইন দ্য লাইন অব ফায়ার : আ মেমোয়ার’ প্রকাশিত হয়। 

সেখানে জীবনের নানা কথা তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে নিজের প্রেমিক সত্তাও পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। মোশাররফ জানান, তার দ্বিতীয় প্রেমিকা ছিলেন এক বাঙালি মেয়ে। যদিও ব্যর্থ হয় সেই প্রেম। সেই নারী এখন থাকেন বাংলাদেশেই।

আত্মজীবনীতে মোশাররফ লেখেন, ‘ও এখন সুখী দাম্পত্য কাটাচ্ছে। থাকে বাংলাদেশে।’ কিন্তু ওই বাঙালি প্রেমিকার নাম কখনও জনসমক্ষে আনেননি এই কূটনীতিক। দ্বিতীয় প্রেমিকাকে নিয়ে আত্মজীবনীতে যে কয়েক লাইন লিখেছেন, সেখানে শুধু ‘বাঙালি’ শব্দের উল্লেখ রেখেছেন। আর জানিয়েছেন কী ভাবে এই প্রেম হয়েছিল।

সাবেক পাক প্রেসিডেন্ট জানান, বাঙালি কন্যার সঙ্গে প্রেমের আগে অন্য একটি সম্পর্কে ছিলেন। কিন্তু তা নেহাতই কিশোর বয়সের ভাললাগা। ভালবাসা কি না বুঝতে না বুঝতেই ‘প্রথম প্রেমিকা’ মোশাররফের জীবন থেকে হারিয়ে যান। 

দ্বিতীয় প্রেম অর্থাৎ, বাঙালি তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমকে প্রথমের চেয়ে অনেক বেশি গভীর বলে উল্লেখ করেছেন মোশাররফ। কিশোর প্রেমের আখ্যানে মোশাররফ লিখেছেন, কী ভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেমিকাকে চিঠি পাঠাতেন। কী ভাবে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অধীর আগ্রহে থাকতেন।

মোশাররফ জানিয়েছেন, ওই বাঙালি প্রেমিকা তার প্রতিবেশিনী ছিলেন। করাচির গার্ডেন রোডে তাদের পাশাপাশি বাড়ি ছিল। যাতায়াতের পথেই পরিচয় এবং মন দেওয়া-নেওয়া।

আত্মজীবনীতে মোশাররফ জানান, গার্ডেন রোডের বাড়ি ছিল তার কিশোর প্রেমের রাজধানী। প্রথম প্রেমিকার বাড়ি ছিল গার্ডেন রোডে। কিন্তু পরে তার পরিবার অন্যত্র বাড়ি নিয়ে চলে যায়। তার পর শুরু দ্বিতীয় প্রেম।

দ্বিতীয় প্রেমিকাকে নিয়ে মোশাররফ লেখেন, ‘ও ছিল সুন্দরী এবং বাঙালি। পূর্ব পাকিস্তানে ওদের বাড়ি। আগের প্রেমের মতো এই প্রেম আমার কাছে অতটা তুচ্ছ ছিল না।’ তিনি যে এই প্রেম নিয়ে ‘সিরিয়াস’ ছিলেন, তা পরোক্ষে বোঝাতে গিয়ে এই ‘অতটা তুচ্ছ’ শব্দ ব্যবহার করেছেন পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক।

মোশাররফ জানান, তার দ্বিতীয় প্রেমের সম্পর্ক বেশ কয়েক বছর টিকেছিল। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া পর্যন্ত নিয়মিত দেখাসাক্ষাৎ করতেন প্রেমিকার সঙ্গে। এমনকি পাক সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় লেফটেন্যান্ট হওয়া পর্যন্ত সম্পর্কে ছিলেন। 

সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরও মোশাররফের মন পড়ে থাকত পাড়ায়। আরো স্পষ্ট করে বললে বাঙালি প্রেমিকার জন্য। তিনি জানান, প্রথম ভাগে করাচিতে ৩৬তম ‘লাইট অ্যান্টি-এয়ারক্র্যাফ্ট রেজিমেন্টে’ প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন, যাতে প্রেমিকার কাছ থেকে খুব দূরে কোথাও না যেতে হয়।

বইতে মোশাররফ লেখেন, ‘কেন সেনা প্রশিক্ষণের জন্য করাচিকে বেছে নিয়েছিলাম আমি? না, তার কারণ আমার পরিবার নয়। এটা ছিল ওই বাঙালি কন্যার জন্য। ও ওখানে থাকত তাই...।’ কিন্তু ন্যূনতম অ'স্ত্র প্রশিক্ষণ ছাড়া তো সরাসরি ‘অ্যান্টি এয়ারক্র্যাফ্ট রেজিমেন্টে’ যাওয়া যায় না। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও পরে অন্যত্র চলে যেতে হয়। প্রেমিকার জন্য মনকেমন করা অনুভূতি নিয়েই তার কাছ থেকে দূরে সরে যান তিনি।

মোশাররফ জানান, তার এই দ্বিতীয় প্রেমের ‘সমাপ্তি’ ছিল ‘আকস্মিক’ এবং ‘অপ্রত্যাশিত’। মোশাররফ লেখেন, ‘সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো মেয়েটির পরিবার আচমকা পূর্ব পাকিস্তান চলে গেল। আর সেখানেই শেষ হলো প্রেম।’

বাঙালি কন্যার সঙ্গে প্রেম করতে গিয়ে ধরাও পড়েন সাবেক পাক সেনাপ্রধান। সমস্যা হয় মেয়েটির। মোশাররফ লেখেন, ‘ওর মা আমাদের সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করেন। কারণ, ও (প্রেমিকা) পড়াশোনায় ক্রমশ অমনযোগী হয়ে পড়েছিল।’

মোশাররফ লেখেন, ‘আমি গড়পড়তা পড়ুয়ার চেয়ে ভাল পড়াশোনায় ছিলাম। মোটামুটি ক্লাসের প্রথম চার-পাঁচ জনের মধ্যে নাম থাকত। আমার যখন বয়স ১৫ বছর, আমার পরীক্ষার ফলও খারাপ হতে থাকে।’

মোশাররফ লিখেছেন তার প্রথম প্রেম হয়তো ভাল লাগার চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। তবে চিঠি দেওয়া-নেওয়া চলতই। দাদির অজান্তে তাকেই ‘প্রেমের ডাকপিয়ন’ করেছিলেন ছোট্ট মোশাররফ। দাদিকে বলতেন, ‘যাও প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা করে এসো।’ 

আর তার অলক্ষ্যে বোরখার পকেটে ভরে দিতেন প্রেমপত্র। প্রেমিকাকে আগেই বলা থাকত, কোথায় থাকবে প্রেমপত্র। এ ভাবেই বেশ কিছু দিন চলছিল সেই প্রেম। কিন্তু প্রথম প্রেমিকার পরিবার অন্যত্র বাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার পর মোশাররফের জীবনে দ্বিতীয় প্রেমের প্রবেশ। তবে দ্বিতীয় প্রেমটা জোরালোই ছিল। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হন। এখন সেই প্রেমিকা বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবঙ্গে থাকেন বলে জানান মোশাররফ। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে