সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ১১:৪২:৫৩

তিন নারীর সঙ্গে প্রেমের কথা কখনও লুকাননি পারভেজ মোশাররফ!

তিন নারীর সঙ্গে প্রেমের কথা কখনও লুকাননি পারভেজ মোশাররফ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আদালতের আদেশে রাজনীতি থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন অনেক আগেই। রোববার জীবন থেকেও হারিয়ে গেলেন পাকিস্তানের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ রাষ্ট্রপ্রধান পারভেজ মোশাররফ। দুবাইয়ের এক হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন পাকিস্তানের এই সাবেক সেনাপ্রধান তথা প্রেসিডেন্ট।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বরাবরই সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া মোশাররফ পদোন্নতির সব ধাপ পেরিয়ে প্রথমে সেনাপ্রধান হন। পরে ২০০১ সালে ইসলামাবাদের মসনদে বসেন।

১৯৯৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের শাসনক্ষমতা দখল করেছিলেন মোশাররফ। পরবর্তী কয়েকটা বছরে তিনিই ছিলেন পাকিস্তানের সর্বেসর্বা। মোশাররফকে বিশ্বাস করে সেনার উচ্চপদে বসিয়েছিলেন নওয়াজ শরিফ। পরে মতপার্থক্যের কারণে মোশাররফকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরাতে চেয়েও তা করতে পারেননি নওয়াজ।

উল্টো এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নওয়াজকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ইসলামাবাদের মসনদে বসেন মোশাররফ। ব্যক্তিগত জীবনের নানা ওঠাপড়া নিয়েও খোলামেলা ছিলেন মোশাররফ। আত্মজীবনী ‘ইন দি লাইন অফ ফায়ার’-এ তিনি জানিয়েছিলেন, তার জীবনের তিনটি প্রেমের কথা।

প্রেমজীবনের কথা বলতে গিয়েই বাঙালি প্রণয়ীর কথা জানিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বন্দর শহর করাচিতে থাকার সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাসিন্দা, এক বাঙালি তরুণীর সঙ্গে প্রেম হয়েছিল তার। যদিও বাড়ি বদলের সময় হারিয়ে যান সেই প্রেমিকা, হারিয়ে যায় তরুণবেলার প্রেমও।

সেটি ছিল তার দ্বিতীয় প্রেম। প্রথম বার বয়সে অনেকটাই বড় এক তরুণীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছিলেন মোশাররফ। পাকিস্তানের ভাবী রাষ্ট্রপ্রধান প্রেমে এতটাই মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন যে, তার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয়েছিল। অন্যান্য বারের মতো প্রথম পাঁচে থাকা হয়নি তার।

স্ত্রী শেহবার সঙ্গে অবশ্য তার সম্বন্ধ করেই বিয়ে হয়েছিল। খুব সাধারণ পোশাকে শেহবার বাড়ি যাওয়ার স্মৃতিচারণা করেছিলেন মোশাররফ। জানিয়েছিলেন, শেহবাকে এক ঝলক দেখেই তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। জন্ম দিল্লিতে হলেও দেশভাগের পর পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন মোশাররফের বাবা-মা। 

মোশাররফের বাবা ছিলেন পাকিস্তান প্রশাসনের আমলা। বাবার কর্মসূত্রে কিছু দিনের জন্য তুরস্কে যেতে হয়েছিল মোশাররকে। সে কারণে তুর্কি ভাষায় বিশেষ পারদর্শী ছিলেন মোশাররফ। ২০০৮ সালে বিরোধী দলগুলি একজোট হলে চাপের মুখে ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট ইস্তফা দেন মোশাররফ। 

পরে লন্ডন এবং দুবাইতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান তিনি। গণতন্ত্রের রাস্তা বন্ধ করে দেশে ‘একনায়কতন্ত্র’ কায়েম করলেও মোশাররফের আমলে পাকিস্তানের অর্থনীতি এবং সমাজে উদারীকরণের হাওয়া বয়েছিল। পাকিস্তানের একাধিক বেসরকারি টেলিভিশন সংস্থাকে লাইসেন্স দিয়েছিলেন তিনি। নাটক, গানবাজনার প্রসারেও উদ্যোগী ছিলেন তিনি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে