আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। যা রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। এতে এখন পর্যন্ত ৬ জন নিহত হয়েছে। গত রোববার ইরানের দোকানদাররা জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় ও মুদ্রার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর এই আন্দোলন সাধারণের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে এই বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তেহরানকে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, যদি ইরানের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চলানো হয় বা সহিংসভাবে হত্যা করা হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসবে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর এই মন্তব্য করলেন ট্রাম্প। বিভিন্ন প্রদেশে বিক্ষোভ সহিংসতা রূপ নিয়েছে।
দোকানদারদের আন্দোলনের মাধ্যমে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকারের মুদ্রানীতির ব্যর্থতায় স্থানীয় মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্যের দ্রুত ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নামেন। পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
বৃহস্পতিবার দেশটির লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে প্রতিবাদ জানানোর সময় সহিংসতায় নিহত হন ৩, আহত ১৭ জন। রাজপথে বিভিন্ন জিনিসে আগুন জ্বলছে, থেকে থেকে গুলির প্রতিধ্বনি হচ্ছে। রাস্তায় লোকজন ‘নির্লজ্জ! নির্লজ্জ!’ বলে চিৎকার করছে।
এর আগে সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছিল, ইরানের চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশের লোরদেগান শহরে প্রতিবাদ জানানোর সময় ২ জন নিহত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে পশ্চিমাঞ্চলীয় খুদাস্ত শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়েছে।
২০১৮ সালে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর থেকেই ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে চাপে রয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গত বছরের জুনে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বিমান হামলার চালানোর পর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে তেহরান। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভ এবং ট্রাম্পের কড়া বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।