আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় ভারতের ওপর আবারও শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে খুব দ্রুত দিল্লির বিরুদ্ধে আমদানি-রপ্তানি শুল্ক বাড়ানো হবে। রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুমকি দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, মোদি খুব ভালো লোক। তিনি জানতেন রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে আমরা দেশটির ওপর খুব দ্রুত শুল্ক বাড়িয়ে দেব।
এটি দিল্লির জন্য খারাপ হবে। এ সময় তিনি বলেন, রাশিয়ার অর্থনীতির অবস্থা খারাপ যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় বিভিন্ন দেশের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়ানোর নতুন নীতি ঘোষণা করে। এর উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, অভ্যন্তরীণ শিল্প রক্ষা এবং নির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক নীতির চাপ সৃষ্টি করা।
রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প এমন সময় এই হুঁশিয়ারি দিলেন, যখন ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় তুলেছেন। এর আগেও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করায় ভারতের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। মাদুরোকে আটক করার পর ভারত সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। ওয়াশিংটনের নাম স্পষ্টভাবে না নিয়ে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি।
একই বছরের ৪ এপ্রিল থেকে ভারতে উৎপন্ন পণ্যের ওপর একটি সাধারণ ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে ১ আগস্ট থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকরের ঘোষণা দেয়। এরপর আসে ট্রাম্পের আরেকটি নতুন ঘোষণা। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
এতে মোট শুল্কস্তর প্রায় ৫০ শতাংশে দাঁড়ায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত মস্কো থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়িয়ে দেয়। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এই আমদানির পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। জি-৭ দেশগুলো রাশিয়ার তেলের দাম ৬০ ডলারেরও কম নির্ধারণ করলে দেশটি ভারতকে ছাড়ে তেল দিতে শুরু করে। রাশিয়া এখনও ভারতের অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ সরবরাহকারী।
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুসারে, ভারত ২০২৫ সালের অক্টোবরে রাশিয়া থেকে ৩ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের চেয়ে ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার কম। আমদানি মূল্যের এক মাসের মধ্যে যা সবচেয়ে তীব্র হ্রাস।
গত অক্টোবরে ভারত ৭১ দশমিক ৬ লাখ টন রাশিয়ান তেল আমদানি করে, যা আগের বছর অক্টোবরে ছিল ১০৩ দশমিক ৮ লাখ টন। আমদানি কমেছে অন্তত ২৯ শতাংশ। পাশাপাশি একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানির পরিমাণ গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার আগে গত অক্টোবরে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারত ব্যয় করে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরো।
রয়টার্স জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। এর ফলে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে আসার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পর থেকে মোদি কমপক্ষে তিনবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন; কিন্তু আলোচনা এখনও অমীমাংসিত।