আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এবার মুখোমুখি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন! আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় সেখানে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বৃহস্পতিবার(১৫ জানুয়ারি) ডেনমার্কের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ফ্রান্স ও জার্মানির বিশেষ সেনাসদস্যরা গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ পৌঁছেছেন। ইউরোপীয় মিত্রদের এই আকস্মিক সামরিক মোতায়েনকে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, ১৩ সদস্যের একটি জার্মান নজরদারি দল এবং ফ্রান্সের একদল পর্বত বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, এটি কেবল শুরু এবং সামনে আরও সেনা পাঠানো হবে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, নরওয়ে এবং সুইডেনও এই মিশনে যোগ দিতে কর্মকর্তা পাঠাচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউরোপীয় শক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা ন্যাটো কাঠামোর মধ্যেই সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি গ্রিনল্যান্ডের বিশাল খনিজ সম্পদ এবং ভৌগোলিক অবস্থান দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তিনি মনে করেন, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে ডেনমার্কের একার সক্ষমতা নেই। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বারবার দ্বীপটি বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই হোয়াইট হাউসে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও ট্রাম্প তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই যৌথ মহড়া ও সেনা মোতায়েন মূলত একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। ডেনিশ ডিফেন্স কলেজের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের একতরফা সামরিক পদক্ষেপের কথা ভেবে থাকে তবে এই মোতায়েন তাকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।