আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনা শুরুর খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। তবে একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৭৫ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ০১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারের দাম ৭৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ১১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৫ দশমিক ৭৪ ডলারে নেমে এসেছে।
এর আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ক কর্মসূচি বাতিল করার পর শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সব দেশ থেকে আমদানির ওপর অস্থায়ী শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে, যা আইনে অনুমোদিত সর্বোচ্চ হার।
আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সপ্তাহান্তে শুল্ক সংক্রান্ত খবরে বাজারে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে। এর প্রভাব স্বর্ণের দাম ও মার্কিন শেয়ারবাজারের ফিউচারে পড়েছে, পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দামেও প্রভাব ফেলেছে।
শুল্ক নিয়ে এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। গত সপ্তাহে এই উত্তেজনার কারণে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় তৃতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনায় বসবে। আর টনি সাইকামোরের মতে, এটি প্রমাণ করে দুই দেশ বর্তমানে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করতে চাইবে বলে তিনি মনে করেন না, কারণ এতে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়তে পারে।
এদিকে, ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতির বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে।