বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৩:০৩

৬টি পারমাণবিক বোমার খোঁজ নেই, ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র

৬টি পারমাণবিক বোমার খোঁজ নেই, ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইল ও মার্কিন সেনাদের সঙ্গে ইরানের পালটাপালটি হামলা চালাছে, যা ইতোমধ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া ৬টি পরমাণু ওয়ারহেড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেশটিতে। নিখোঁজ এসব পরমাণু ওয়ারহেড শত্রু দেশের হাতে পড়লে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে অন্তত ৬টি এমন দুর্ঘটনার ঘটনা রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র হারিয়ে গেছে। আজও সেগুলোর কোনো হদিস মেলেনি। সেগুলো এখন যে কেউ খুঁজে পেতে পারে। 

মার্কিন সামরিক পরিভাষায় এ ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনাকে বলা হয় ‘ব্রোকেন অ্যারো’। অর্থাৎ এমন ঘটনা, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র দুর্ঘটনায় হারিয়ে যায় বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হচ্ছে, তারা যদি এসব নিখোঁজ বোমা খুঁজে না পায়, তাহলে প্রতিপক্ষরাও সহজে তা খুঁজে পাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নথিভুক্ত ৩২টি ‘ব্রোকেন অ্যারো’ ঘটনার মধ্যে এখনো পর্যন্ত অন্তত ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেডের হদিস পাওয়া যায়নি।

এ ধরনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার একটি ঘটে ১৯৫৮ সালে। ওই বছর টাইবি দ্বীপের কাছে আকাশে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ হয়। একটি বি-৪৭ স্ট্রাটোজেট বোমারু বিমান তখন একটি সম্পূর্ণ সশস্ত্র মার্ক-১৫ পারমাণবিক বোমা বহন করছিল। সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইলট আশঙ্কা করেন, বোমাটি বিস্ফোরিত হতে পারে। ফলে তিনি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে জর্জিয়ার উপকূলের কাছে ওয়াসাউ সাউন্ডের পানিতে বোমাটি ফেলে দেন।

প্রায় ৭ হাজার ৬০০ পাউন্ড ওজনের এই মার্ক-১৫ হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৮ মেগাটন। তুলনা করলে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলায় ব্যবহৃত ফ্যাট ম্যানের চেয়ে এটি প্রায় ১৯০ গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল।

দুর্ঘটনার পর বহুবার অনুসন্ধান চালানো হলেও ওই পারমাণবিক বোমাটি আজ পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি। ফলে এটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া পারমাণবিক অস্ত্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

মার্কিন বিমানবাহিনী জনসাধারণকে জানিয়েছিল, বোমার প্লুটোনিয়াম ওয়ারহেডটি উড্ডয়নের আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং সিসার বিকল্প দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তবে, কয়েক দশক পর ১৯৯৪ সালে, ১৯৬৬ সালের কংগ্রেসনাল সাক্ষ্য থেকে প্রকাশিত নথিগুলো প্রকাশ করে যে, টাইবি মার্ক ১৫ আসলে একটি অক্ষত পারমাণবিক অস্ত্র ছিল।

১৯৬৬ সালে, দুটি মার্কিন সামরিক বিমানের সংঘর্ষের পর ভূমধ্যসাগরে একটি বি-২৬ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা হারিয়ে যায় এবং এর ওয়ারহেড এখনো নিখোঁজ।

এদিকে, মার্কিন হামলা এবং পূর্ববর্তী লক্ষ্যবস্তু মার্কিন-ইসরাইল অভিযানের ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, তাদের সক্ষমতা পুনর্নির্মাণের জন্য এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইস বলেছেন, ‘যদি এই হামলা কোনো শাসনব্যবস্থা অপসারণে সফল না হয়, তাহলে ইরানে হাজার হাজার মানুষ এই ধরনের কর্মসূচি পুনর্গঠন করতে সক্ষম থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তিটি নিজেই কয়েক দশক পুরোনো এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ ইরান সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার মতো একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে। যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এটি একটি বিপজ্জনক বিশ্ব এবং পারমাণবিক হওয়াই ভালো।’

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে