আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ১২টা ৪১ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫,১৯৮ দশমিক ২৯ ডলারে। তবে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার্স শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৫,২০৬ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল মজুত ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান মেটালস ফোকাসের সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিকোস কাভালিস বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের নিরাপদ বিনিয়োগের বৈশিষ্ট্য আবার সামনে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজার নিয়ে তারা আশাবাদী।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। যদিও বৈশ্বিক বাজারে এখনো ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করতে পারেন।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এর ফলে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বহু তেলবাহী জাহাজ আটকে আছে এবং অনেক উৎপাদক সংরক্ষণাগার পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদনও বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এতে জ্বালানি দামের ওপর চাপ বেড়েছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং একের পর এক নতুন রেকর্ড গড়েছে।
নিকোস কাভালিস মনে করেন, চলতি বছরের তৃতীয় বা চতুর্থ প্রান্তিকে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে, এমনকি আগামী বছরের শুরুতে তা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেব্রুয়ারি মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার প্রকাশিত হবে ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয়ের মূল্যসূচক (পিসিই), যা মূল্যস্ফীতি পরিমাপে ফেডারেল রিজার্ভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী ১৮ মার্চ দুই দিনের বৈঠক শেষে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে বিশ্বের বৃহত্তম ও শীর্ষস্থানীয় এক্সচেঞ্জ অপারেটর সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, চলতি বছরে অন্তত দুই দফা সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
অন্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রূপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৭ দশমিক ৭৪ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২,১৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১,৬৬৩ দশমিক ৩৯ ডলারে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স।