আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসন যখন ১৭তম দিনে গড়িয়েছে তখন তাদের লক্ষ্যবস্তুও পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আর তেহরানের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়, বিশ্ব জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করাই প্রধান টার্গেট ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের। এই পথে পৃথিবীর মোট জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, কিন্তু আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপথটি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
অতি-গুরুত্বপূর্ণ পানিপথটি উন্মুক্ত করতে মিত্র দেশগুলোর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সবাই তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। এরপর পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সহায়তা চেয়েও হতাশ হন ট্রাম্প। এবার বিষয়টি নিয়ে মশকরা করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল নিয়ে উপহাস করেছেন, যদিও ইসলামাবাদ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত করা এই সংঘাতের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মূল লক্ষ্য এখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার দিকে মোড় নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে, অথচ যুদ্ধের আগে এটি উন্মুক্তই ছিল।
তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘যুদ্ধের লক্ষ্য এখন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার দিকে সরে গেছে বলে মনে হচ্ছে, যা যুদ্ধের আগে থেকেই উন্মুক্ত ছিল।’
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সূত্র: এনডিটিভি।