আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছে ভারতীয় রুপি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) লেনদেনের শুরুতেই রুপির মান ৩৩ পয়সা কমে প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯৪.২৯ রুপিতে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে এ যাবতকালের সর্বনিম্ন রেকর্ড।
ফরেক্স ট্রেডারদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ শেয়ার বাজারে ব্যাপক দরপতন এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) পুঁজি সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা স্থানীয় মুদ্রার ওপর এই অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বাজারে এদিন রুপি ৯৪.১৮-তে উন্মুক্ত হলেও দ্রুত তা আরও নিচে নেমে যায়। এর আগে গত বুধবার রুপির মান ৯৩.৯৬-তে নেমে নতুন রেকর্ড গড়েছিল এবং বৃহস্পতিবার রাম নবমীর সরকারি ছুটির কারণে বাজার বন্ধ ছিল।
ফিনরেক্স ট্রেজারি অ্যাডভাইজারস এলএলপি-র ট্রেজারি প্রধান অনিল কুমার বনশালি জানিয়েছেন, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০৫.৭৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া এবং ডলার ইনডেক্স ১০০-এর কাছাকাছি পৌঁছানোয় রুপির এই দুর্বল অবস্থান তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি পরিমাপক সূচক বা ডলার ইনডেক্স ০.০৮ শতাংশ বেড়ে ৯৯.৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭.১ ডলারে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে, তবুও বাজারের অস্থিরতা কাটেনি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা এখন রুপির চেয়ে ডলারকেই বেশি নিরাপদ মনে করছেন।
ভারতীয় শেয়ার বাজারের পরিস্থিতিও রুপির পতনে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। শুক্রবার সকালে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ৯২৬.৯২ পয়েন্ট কমে ৭৪,৩৪৬.৫৩-তে এবং নিফটি ২৮০.৯৫ পয়েন্ট কমে ২৩,০২৫.৫০-এ নেমে আসে।
এক্সচেঞ্জ ডেটা অনুযায়ী, গত বুধবারই বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রায় ১,৮০৫.৩৭ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় এবং এর ফলে চলতি হিসাবের ঘাটতি তৈরি হয়, যা সরাসরি রুপির মানকে দুর্বল করে দেয়। বর্তমানে ব্রেন্ট অয়েলের দাম ১০৭.৫০ ডলার পর্যন্ত উঠলেও ট্রাম্পের ঘোষণার পর তা সামান্য কমেছে, তবে এটি রুপির পতন রোধ করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত ভারতীয় রুপির এই অস্থিতিশীল অবস্থা বজায় থাকতে পারে। ডলারের ক্রমাগত শক্তিশালী হওয়া এবং তেলের উচ্চমূল্য ভারতের অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতিকেও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) রুপির এই পতন ঠেকাতে বাজারে ডলার ছেড়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর। তবে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিদেশি বিনিয়োগের বহিঃপ্রবাহ রুপিকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা নিকট ভবিষ্যতে ভারতের আমদানি নির্ভর খাতগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। সূত্র: দ্য হিন্দু