বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৪:৩২

ভাষণের পরই তেলের দামে বড় লাফ

ভাষণের পরই তেলের দামে বড় লাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান-সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রাইমটাইম’ ভাষণ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো তার রণংদেহী মনোভাব এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। ভাষণের পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম এক লাফে ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একইসাথে মার্কিন তেলের বাজার ‘ডব্লিউটিআই’-তেও ৩ শতাংশ দরবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।

ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। এমনকি তেহরান ট্রাম্পের দাবি মেনে না নিলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলার নতুন হুমকি দেন। 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদাসীনতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাষণে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর গুরুত্বকে অনেকটা খাটো করে দেখিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই জলপথের কোনো ‘প্রয়োজন’ নেই এবং প্রণালীটি পুনরায় উন্মুক্ত করার দায়িত্ব মিত্র দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি মার্কিন শেয়ার বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে; ডাউ জোন্স ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার সূচকের বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে।

ট্রাম্পের এই ভাষণের পর রক্ষণশীল কট্টরপন্থী বিশ্লেষক অ্যান কোল্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ তেলের দাম বাড়ার একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করে উপহাসমূলক মন্তব্যে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ ভাষণ ফলাফল দিতে শুরু করেছে! সাবাস, মিস্টার প্রেসিডেন্ট!’ 

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে