সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৭:৪৪

বড় বেকায়দায় পড়তে যাচ্ছে ভারত

বড় বেকায়দায় পড়তে যাচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে চীনের আধিপত্য বিস্তার কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এই প্রণালিকে একটি দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফায়দা নিতে পারে বেইজিং। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ এবং মারসেলাস ইনভেস্টমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ মুখার্জি সম্প্রতি এই গভীর সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। খবর এনডিটিভির।

সৌরভ মুখার্জি এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন ও ইরান হাত মিলিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিতে পারে। তিনি একে চীনের জন্য একটি ‘টেলরিক্যাল ক্যু’ বা কৌশলগত অভ্যুত্থান হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, চীন এখন এই পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রবেশ করবে। তারা ইরানের সাথে মিত্রতা করে নিশ্চিত করবে যেন বিশ্বের তেলের বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি কোনো স্বল্পমেয়াদী উত্তেজনা নয়, বরং কৌশলগত ক্ষমতার লড়াই যা আগামী কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।

কার্নেগির বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ বাবদ মনে করেন, উপসাগরীয় তেলের ওপর চীনের নির্ভরতা এখন কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষায় রূপ নিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক হিসেবে হরমুজ দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিত করা বেইজিংয়ের জাতীয় স্বার্থে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে চীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে এবং ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তির মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই টানাটানি ভারতের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌরভ মুখার্জি ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছেন। তিনি জানান, তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানিব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। রুপির মান আরও দুর্বল হওয়া এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের ধীরগতির কারণে বিনিয়োগের বাজারে বড় ধস নামতে পারে।

এদিকে সংকটের আগুনে ঘি ঢালছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইরানকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, আগামী মঙ্গলবার হবে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ব্রিজ ধ্বংসের দিন। তিনি বলেন, হারামজাদারা, হয় প্রণালি খুলে দাও, না হয় নরকে পচতে তৈরি হও।

পাল্টা জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, ট্রাম্পের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত মার্কিন পরিবারগুলোকে এক জীবন্ত নরকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা আধিপত্য এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। বেইজিং যেভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও পাকিস্তানে বন্দর এবং অবকাঠামো খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে, তাতে হরমুজ প্রণালিতে চীনের সামরিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ভারতের মতো তেল-নির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে