বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪২:৩৮

ইরানের জন্য ৬টি স্থলপথ খুলে দিল পাকিস্তান

ইরানের জন্য ৬টি স্থলপথ খুলে দিল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের মুখে ইরানের জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ছয়টি স্থল ট্রানজিট রুট খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে হাজার হাজার আটকে পড়া কন্টেইনার গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ‘রোড করিডোর’ তৈরি করল দেশটি। 

গত ২৫ এপ্রিল পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘ট্রানজিট অফ গুডস থ্রু টেরিটরি অফ পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬’ জারি করে এটি অবিলম্বে কার্যকর করেছে।

এই আদেশের ফলে তৃতীয় কোনো দেশে উৎপাদিত পণ্য পাকিস্তানের ওপর দিয়ে সড়কপথে ইরানে পরিবহন করা যাবে। বর্তমানে করাচি বন্দরে ইরানের উদ্দেশ্যে আসা ৩ হাজারের বেশি কন্টেইনার আটকে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ দেওয়ায় এবং যুদ্ধকালীন বীমা প্রিমিয়াম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ সফর করছেন। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান দুই মাসের যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তান বর্তমানে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে।

পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রচার এবং বাণিজ্য করিডোর হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ‘উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এই সুবিধার আওতায় ভারত থেকে আসা কোনো পণ্য পরিবহন করা যাবে না। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান আকাশ যুদ্ধের পর থেকে ভারতীয় পণ্যের ট্রানজিট নিষিদ্ধ রয়েছে।

রুট ও সুবিধাসমূহ: ঘোষিত ছয়টি রুট পাকিস্তানের করাচি, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদর বন্দরকে ইরানের সীমান্ত পারাপার গাব্দ ও তাফতানের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে গোয়াদর-গাব্দ করিডোরটি সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত, যা দিয়ে ইরান সীমান্তে পৌঁছাতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। করাচি থেকে যেখানে সময় লাগত ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা। এই রুটের ফলে পরিবহন খরচ ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই করিডোরটি আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের নির্ভরতা কমিয়ে দেবে। গত বছরের অক্টোবর থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে এবং সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে তোরখাম ও চামান সীমান্ত বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য নির্ভরযোগ্য নয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইফতিখার ফিরদৌসের মতে, পাকিস্তান এখন পশ্চিমমুখী বাণিজ্যের জন্য আফগানিস্তানকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে পারবে। এটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে পশ্চিম এশিয়ায় চীন-সমর্থিত বাণিজ্য রুটগুলোর প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। তবে বিশ্লেষকরা সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে