আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আজ ১০ মে আন্তর্জাতিক মা দিবসকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছেন ভারতের দিল্লির এক তরুণ উদ্যোক্তা। নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মা-বাবার সাথে চমৎকার কিছু সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতে তিনি তিন দিনের সবেতন ছুটি এবং ১০ হাজার রুপির বিশাল ভ্রমণভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেনৎ
একটি বিপণন ও জনসংযোগ (পিআর) প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রজত গ্রোভারের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভিডিওটি ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে এবং নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছে।
রজত গ্রোভার জানান, আধুনিক জীবনযাত্রার তীব্র ব্যস্ততার মাঝে সন্তানরা অনেক সময়ই মা-বাবার অপূর্ণ থেকে যাওয়া স্বপ্নগুলোর কথা ভুলে যায়। কর্মীদের সেই ব্যস্ততা কাটিয়ে মা-বাবার কাছাকাছি আসার এবং তাদের সাথে নতুন করে আত্মিক যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ করে দিতেই তিনি এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। তার মতে, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় মা-বাবার মনের খবর নেওয়ার সময়টুকুও হয়ে ওঠে না।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপটিতে রজত গ্রোভারকে বলতে শোনা যায়, ‘অনেক সময় আমরা তাদের মনের কথা জিজ্ঞেসই করি না। আমরা নিজেদের ব্যস্ত জীবন নিয়ে মগ্ন থাকি। সকালে বাড়ি থেকে বের হই এবং রাতে ফিরে আসি। কখনো জানতেও চাই না যে তারা কেমন আছেন বা তাদের শরীর কেমন চলছে। অনেক সময় আমরা বিষয়গুলো বুঝতে পারলেও তা নিয়ে কথা বলতে ভুলে যাই।’
এই দূরত্বের দেয়াল ভেঙে ফেলতে রজত তার কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন তাদের মা-বাবার পছন্দের খাবার এবং তারা জীবনে কোন কোন জায়গায় ভ্রমণ করতে চেয়েছেন, সে সম্পর্কে জানতে চান। এরপর তিনি কর্মীদের জন্য তিন দিনের ছুটির ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘তাদের জিজ্ঞেস করুন, টিকিট বুক করুন এবং তিন দিনের জন্য ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। এটি কোম্পানির পক্ষ থেকে সবেতন ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। শুধু তাই নয়, এই ভ্রমণের খরচ বাবদ আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার রুপি করে দেব।’
ভিডিওটির ক্যাপশনে রজত আরও লিখেছেন, ‘যাঁরা নিজেদের পুরো জীবনটা আমাদের প্রতিটি আবদারে "হ্যাঁ" বলে কাটিয়ে দিয়েছেন, তাদের আমরা সবসময় শুধু বলি "কোনো একদিন" করব। আমাদের মা-বাবা কোনো প্রতিদান ছাড়াই আমাদের জন্য তাদের সময়, স্বপ্ন, শক্তি এবং জীবনের সেরা বছরগুলো উজাড় করে দিয়েছেন। এখন আমাদের অন্তত একটা প্রশ্ন তাদের করা উচিত—"এমন কী আছে যা তুমি সবসময় করতে চেয়েছ?" এরপর নীরবে সেটি সত্যি করে তোলা উচিত।’
রজতের এই আন্তরিক উদ্যোগের ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন করপোরেট পেশাজীবীদের কাছ থেকেও অভাবনীয় সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রের এমন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে অন্য সমস্ত প্রতিষ্ঠানকেও এই উদাহরণ অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘আজকের করপোরেট দুনিয়ায় এই মানসিকতার মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই বিরল। এমন চমৎকার একটি উদ্যোগ দেখে মন ভরে গেল।’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘বিশ্বের সব প্রতিষ্ঠান যদি এভাবে চিন্তা করা শুরু করত, তবে জীবন আরও সুন্দর হতো।’
আরেকজন ব্যবহারকারী কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘কাজের জায়গার মান ও পরিবেশ উন্নত করার জন্য এটি একটি দারুণ পদক্ষেপ। কারণ আমরা দিনের অর্ধেকটা সময়ই কর্মক্ষেত্রে কাটাই। কাজের পরিবেশ যদি মনোরম এবং সহযোগিতাপূর্ণ হয়, তবে কর্মীদের কাজের দক্ষতা বাড়ে এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নতি তরান্বিত হয়।’ অন্য এক নেটিজেন রজতকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, ‘এটি অত্যন্ত দূরদর্শী এবং সংবেদনশীল একটি উদ্যোগ, যা বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও ভেবে দেখতে পারেনি। আপনার জন্য শুভকামনা।’