শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ০৮:১৯:০২

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়বে নাকি কমবে? যা জানা গেল

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়বে নাকি কমবে? যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী ডলারের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে। পাশাপাশি রুপাসহ অন্যান্য ধাতুর দামেও বড় পতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তেলের উচ্চ মূল্য ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার থাকার আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৫ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫৫১.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ৫ মে’র পর সর্বনিম্ন। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৩.৪ শতাংশ কমেছে। জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২.৮ শতাংশ কমে ৪,৫৫৬.৪০ ডলারে নেমেছে।

১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড প্রায় এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলার-মূল্যের স্বর্ণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

স্টোনএক্সের বিশ্লেষক রোনা ও’কনেল বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত এবং এ সপ্তাহে প্রকাশিত এপ্রিলের পিপিআই ও সিপিআই তথ্য মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর ফলে বন্ডের ইল্ড ও ডলারের দাম বেড়েছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এ সপ্তাহে ৭.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

জ্বালানির উচ্চমূল্য উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ রাখতে বাধ্য হতে পারে, যা স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।

এই সপ্তাহের মূল্যস্ফীতির তথ্যেও দেখা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বেশি অনুভব করছেন।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনাকে বাজারমূল্যে হিসাব করে নিয়েছেন। রোনা ও’কনেল আরও বলেন, উপসাগরীয় যুদ্ধ নিয়ে বাজার অনেক দিন ধরেই সতর্ক ছিল। এর মধ্যে ভারতে আমদানি শুল্ক সংক্রান্ত ধারাবাহিক খবর দুর্বল বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করেছে।

আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির কারণে এ সপ্তাহে ভারতে স্বর্ণের দামে রেকর্ড পরিমাণ ছাড় দেখা গেছে। স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারের দিকনির্দেশনা বোঝা কঠিন, কারণ চারদিকে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও আরেক দফা কমতে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।
 
এর আগে সবশেষ আজ সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কার্যকর কয়েছে আজ সকাল ১০টা  থেকেই।

অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট সিলভারের দাম ৬.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮.২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ৩.১ শতাংশ কমে ১,৯৯১.৩৩ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ কমে ১,৪২২.৪১ ডলারে নেমেছে। তিনটিই সাপ্তাহিক লোকসানের পথে রয়েছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে