আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করার একটি প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে তেহরান। রোববার (২৪ মে) মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চলমান এই আলোচনা নিয়ে বেশ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেও চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের সূত্র জানায়, এই সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান যেমন তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে পারে, তেমনি বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে বন্দর অবরোধ তুলে নিতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবার উন্মুক্ত করে দেবে ইরান।
মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কমানোর বিনিময়ে ইরানকে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই দেওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা চলছে।
তবে আলোচনার এই অগ্রগতি সত্ত্বেও চুক্তিটি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট আধাসামরিক সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়টিসহ চুক্তির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা আটকে রেখেছে। তাসনিম নিউজ এক বিবৃতিতে জানায়, জনগণের অধিকার আদায়ে ইরান তার ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
এদিকে রোববার সকালে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান পারমাণবিক বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ বা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে বিকেলের দিকে হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানান, দলিলের মূল নীতিগুলোর ওপর উভয় পক্ষের একটি ব্যাপক প্রতিশ্রুতি তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ ঘোষণা নামে অভিহিত এই সমঝোতা স্মারকে প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যা পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
অবশ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আলোচনা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে চলছে। আমি আমার প্রতিনিধিদের বলেছি চুক্তি করার জন্য কোনো তাড়াহুড়ো না করতে, কারণ সময় এখন আমাদের পক্ষে। যতক্ষণ না একটি চুক্তি সম্পন্ন, প্রত্যয়িত এবং স্বাক্ষরিত হচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের ওপর অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে জারি থাকবে।
মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এই চুক্তিটি সম্পন্ন হতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিল প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে তা চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য সর্বোচ্চ নেতার কাছে পাঠানো হবে। সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট।