আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে গিয়ে এখন উল্টো ‘রাজনৈতিক ফাঁদে’ পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ শুরুর পর তেহরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ দেশটির আইনপ্রণেতারা।
এরমধ্যেই হরমুজ খুলে দেয়া নিয়ে দু’পক্ষের সমঝোতার আভাস মিলছে। তবে রিপাবলিকান কট্টরপন্থিরা বলছেন, ট্রাম্প দুর্বল চুক্তির দিকে যাচ্ছেন। আর ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, যুদ্ধ শুরু ও পরিচালনায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ট্রাম্প বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি কাছাকাছি বলে দাবি করলেও, অতীতে সেই আশাবাদ বাস্তবে রূপ নেয়নি। আবার কূটনৈতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালী আংশিক খুলে দেয়া এবং ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর অবরোধ শিথিলের ভিত্তিতে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, এই চুক্তির রূপরেখা মার্কিনদের কাছে ট্রাম্পের ‘বড় বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা কঠিন হতে পারে।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও দিন দিন ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা বাড়ছেই।
তাদের দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু ও পরিচালনায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। সমালোচকদের মতে, ইরানে নতুন হামলা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি সমঝোতায় গেলেও ওয়াশিংটনকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থি নেতারাও। দলের একাংশ মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে খুব দ্রুত সরে আসছে ওয়াশিংটন। ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যদি ইরানের কাছে থেকে যায়, তাহলে এই যুদ্ধের কী দরকার ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই এখন চাপে আছেন ট্রাম্প। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তেলের দাম, জ্বালানি সংকট ও জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে। আবার অবরোধ শিথিল করলে রিপাবলিকানদের একাংশ সেটাকে ট্রাম্পের পিছু হটা হিসেবে দেখতে পারে।
যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তি করবে না যাতে ইরান পারমাণবিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পাঁচ বিশ্ব শক্তি ও জার্মানির সই হওয়া পরমাণু চুক্তি বাতিল করে কী লাভ হলো যুক্তরাষ্ট্রের, যেখানে যুদ্ধ এবং শত শত প্রাণহানি দেশটিকেই সমালোচনার মুখে ফেলেছে।