আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগের মধ্যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে; এমন প্রত্যাশা আরও জোরালো হওয়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এর সঙ্গে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ায় স্বর্ণের ওপর বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৬ জুন) দিনের শুরুতে ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যাওয়ার পর স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪১ দশমিক ৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহজুড়ে বুলিয়নের দাম কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৩ ডলারে স্থির হয়েছে।
মার্কিন শ্রম দফতরের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে সংশোধিত হিসাবে ১ লাখ ৭৯ হাজার কর্মসংস্থান বাড়ার পর মে মাসে অকৃষি খাতে আরও ১ লাখ ৭২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা মাত্র ৮৫ হাজার কর্মসংস্থান বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এর আগে এপ্রিলের কর্মসংস্থান বাড়ার সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার বলে জানানো হয়েছিল।
টিডি সিকিউরিটিজের গ্লোবাল হেড অব কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বার্ট মেলেক বলেন, প্রত্যাশার তুলনায় কর্মসংস্থানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এসেছে। ইরানে চলমান যুদ্ধ, উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপের কারণে ফেডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে স্বর্ণ ধারণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের পর মার্কিন ট্রেজারি ইল্ডও বেড়েছে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় আরও বেড়েছে। একই সময়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে বাড়ার পথে ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম ১৭ শতাংশের বেশি কমেছে। এই সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি ও দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কাও বেড়েছে।
যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বাজার এখন ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৭২ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা দুর্বল ছিল। অন্যদিকে চীনেও স্বর্ণের প্রিমিয়াম কমেছে, যা বাজারে চাপ বাড়িয়েছে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে এসেছে। প্লাটিনামের দাম ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৮৮ দশমিক ৪৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম একই হারে কমে ১ হাজার ২৪২ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।