রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬, ০৮:৩৩:০২

ভারতকে জাপানের না, ফলে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের

ভারতকে জাপানের না, ফলে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর কয়েক মিলিয়ন ডলারের আম আমদানি করে জাপান। কারণ দেশটিতে বিদেশি বিভিন্নজাতের আমের চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া চাহিদার তুলনায় উৎপাদনও কম।

ডাটা ব্রিজ মার্কেট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জাপানে আমের বাজার মূল্য ছিল ৪২০.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। ২০৩২ সালের মধ্যে জাপানের আমের বাজার ৭.১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাপান প্রধানত পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড এবং মেক্সিকো থেকে আম আমদানি করে থাকে।

সম্প্রতি জাপান প্রায় দুই দশক পর আবারও ভারত থেকে আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ভারতীয় পেস্ট কন্ট্রোল বা কীটনাশক ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি খুঁজে পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় জাপান। এর ফলে গ্রীষ্মকালীন আম রপ্তানি মৌসুমে বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতের বিখ্যাত আলফোনসো, কেসর, ল্যাংড়া ও বাঙ্গানাপল্লি জাতের আম। এর আগে ফলমাছির ঝুঁকির কারণে জাপান ভারতীয় আমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। পরে ভারত কঠোর জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করলে ২০০৬ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

জাপানে ফলমাছির মতো ক্ষতিকর পোকামাকড়ের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বা কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হয়। কারণ এসব পোকা দেশটির কৃষির জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত।

প্রতি বছর আম রপ্তানি মৌসুমের আগে জাপানের কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা ভারতে এসে ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এসব কেন্দ্রে আম রপ্তানির আগে জীবাণুমুক্ত করা হয়। ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট হলো একটি রাসায়নিকবিহীন পদ্ধতি, যেখানে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় গরম বাতাস ব্যবহার করে আমের মধ্যে থাকা পোকা ও ফলমাছির লার্ভা ধ্বংস করা হয়। দুই দেশের রপ্তানি চুক্তি অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক।

চলতি বছরের মার্চ মাসে উত্তর প্রদেশের রহমানপুর এলাকার একটি ভিএইচটি কেন্দ্রে পরিদর্শন চালায় জাপানি দল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ধোঁয়ানাশক ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি পাওয়া গেছে।

ভারত বছরে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টন আম উৎপাদন করে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এর বেশিরভাগ দেশেই খাওয়া হলেও জাপানের মতো উচ্চমূল্যের বাজারে রপ্তানি থেকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভ পান। রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, এই নিষেধাজ্ঞা ভারতের কৃষিপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে এবং অন্য আমদানিকারক দেশগুলোকেও উদ্বিগ্ন করতে পারে।

তাই জাপানে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। যদি সঠিক মান বজায় রাখা যায় তাহলে বাংলাদেশি আমের বড় বাজার হয়ে উঠতে পারে জাপান।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে আম আমদানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান। তবে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রিমিয়াম মানের আমের বাজার হওয়ায় দেশটি আমদানি নিয়ে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে। এসব শর্ত পূরণের বিষয়ে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

জাপানের বাজারে প্রবেশ করা সহজ নয়। দেশটি শুধু আমের স্বাদ নয়, উৎপাদন পদ্ধতি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের মাত্রা নিয়েও কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করে। রপ্তানিকারকদের মতে, জাপানের কোয়ারেন্টিন ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে তাজা আম আমদানির অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান চলছে। বাংলাদেশ কর্তৃক জমা দেওয়া তথ্য পর্যালোচনার পর জাপান ২০২৩ সালের পেস্ট রিস্ক অ্যানালাইসিস-এ অন্তর্ভুক্ত না থাকা সম্ভাব্য ১৬টি ক্ষতিকর পোকামাকড় সম্পর্কিত অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জাপানের শর্তগুলো পূরণ করা খুব কঠিন নয়। এসব শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট।

বাংলাদেশ ২০১৬ সালে প্রথম আম রপ্তানি শুরু করে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ২ হাজার ১৮৮ টন আম রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩২১ টন, অর্থাৎ ২০২৫ সালে রপ্তানি বেড়েছে। তবে এই পরিমাণ এখনও ২০২৩ সালে রপ্তানিকৃত ৩ হাজার ১০০ টনের তুলনায় অনেক কম।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে