আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে বড় ধরনের সুযোগ বাড়ায় বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধস নেমেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) নীতি সুদহার আরো বাড়াতে পারে—এমন গুঞ্জনে সোমবার (৮ জুন) বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর রয়টার্স
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সোমবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৩ ডলার ৯৯ সেন্টে নেমে আসে। এর আগে লেনদেনের শুরুতে এটি গত ২৩ মার্চের পর সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়। গত শুক্রবার এক দিনেই সোনার দাম কমেছিল ৩ শতাংশের বেশি।
অন্যদিকে আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩৪০ ডলার ৯০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
চলতি সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার এই দরপতনের পেছনে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সূচক। মার্কিন শ্রম বিভাগের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের গত শুক্রবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে দেশটিতে কৃষি খাত বাদে নতুন কর্মসংস্থান (নন-ফার্ম পে-রোল) তৈরি হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার। এর আগের মাস এপ্রিলে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৯ হাজার।
বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিশ্লেষক সংস্থা সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য মতে, কর্মসংস্থানের এই চাঙ্গা ভাবের কারণে আগামী ডিসেম্বরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৭০ শতাংশের বেশি, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল মাত্র ৪৫ শতাংশ।
সাধারণত বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়লে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা কিনে রাখেন। তবে ব্যাংকে সুদহার বাড়লে সোনা সঞ্চয়ের আগ্রহ কমে যায়, কারণ সোনা থেকে কোনো নিয়মিত সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। মার্কিন ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা (ইল্ড) দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে ওঠায় বিনিয়োগকারীরা এখন সোনার চেয়ে বন্ডের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরান ও লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ৪ ডলারের বেশি বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, চলতি সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) ও উৎপাদক মূল্য সূচকের (পিপিআই) তথ্য প্রকাশ করা হবে। এই দুই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপ।
মাল্টি-অ্যাসেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হ্যান তান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির সূচক যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গরম থাকে কিংবা আগামী সপ্তাহে ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) সভায় সুদহার বাড়ানোর বিষয়ে কঠোর কোনো ইঙ্গিত আসে, তবে সোনার দাম আরও কমে মনস্তাত্ত্বিক সীমা ৪ হাজার ডলারের ঘরে নেমে আসতে পারে।
সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। সোমবার স্পট সিলভার বা রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭ ডলার ৬০ সেন্টে নেমেছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৭২ ডলার ৭২ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ২২৩ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।