আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বছরের পর বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত পাঁচ বন্ধু উন্নত জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখে আসছিলেন। সেই স্বপ্ন ধরা দিয়েছে তাদের। এক লটারিতেই রাতারাতি শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন পাঁচ বন্ধু। মঙ্গলবার (০৯ জুন) খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, উন্নত জীবনের আশায় বছরের পর বছর ধরে একসঙ্গে লটারি কিনে আসছিলেন তারা। অবশেষে গত ২৭ মে তাদের জীবনে এক অবিশ্বাস্য পরিবর্তন এসেছে। বন্ধুদের একসঙ্গে জমানেনা টাকায় ২৬ বছর বয়সী নেপালি প্রবাসী তায়াব খানের কেনা ইউএই লটারি ‘লাকি ডে’ ড্রতে জয়ী হয়েছে। তার টিকিটটি ৩ কোটি দিরহাম জিতেছে। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় শতকোটি টাকার সমান। পাঁচ বন্ধু লটারির অর্থ সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। ফলে প্রত্যেকে ৬০ লাখ দিরহাম বা ২০ কোটি টাকার কাছাকাছি পাবেন।
তায়াব উন্নত জীবনের আশায় চার বছর আগে আমিরাতে আসেন। ২০২৪ সালে ফেসবুক স্ক্রল করার সময় লটারির বিজ্ঞাপন দেখতে পান। এরপর বন্ধুদের একসঙ্গে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেন। বন্ধুরাও একসঙ্গে টাকা জমিয়ে টিকিট কিনতে শুরু করেন। প্রতি সপ্তাহে পালাক্রমে একজন নম্বর নির্বাচন করতেন।
তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত অংশ নিয়েছি এবং বিশ্বাস ধরে রেখেছি। অনেক সময় মনে হয়েছে হয়তো আর হবে না, কিন্তু আমরা আশা ছাড়িনি। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী টিকিটটি আমিই নির্বাচন করেছিলাম।
ফলাফল ঘোষণার সময় তায়াব ড্র দেখেননি। এমনকি ইমেইলে নোটিফিকেশন আসলেও তা তিনি পাত্তা দেননি। তিনি বলেন, এর আগেও ছোটখাটো পুরস্কারের জন্য এমন ইমেইল পেয়েছি, তাই বিশেষ কিছু মনে হয়নি। কিন্তু ইমেইলটি খুলতেই সবকিছু বদলে যায়।
লটারি জেতা ওই যুবক বলেন, মেইলটি খুলতেই দেখি সেখানে লেখা রয়েছে ৩ কোটি দিরহাম। শুরুতে আমার পুরো শরীর কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল আমি স্বপ্ন দেখছি। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এরপর নিশ্চিত হওয়ার জন্য অ্যাকাউন্টে লগইন করলাম। সেখানেও দেখি তিন কোটি দিরহাম লেখা রয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রথমে চার বন্ধুকে ফোনকে ফোন করেছিলাম। এরপর আমি আমার চাচাকে ফোন করি। তাকেও আমি আমার বাবার মতো সম্মান করি। তিনি আমাকে আমিরাতে আসতে সাহায্য করেছিলেন।
তায়াব বলেন, প্রথমে চাচাকে বললে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে বুঝিয়ে বললে জিজ্ঞেস করলেন কত টাকা? আমি যখন বললাম তিন কোটি টাকা তখন তার চোখে পানি চলে এসেছিল।
তায়াব আরও বলেন, এই লটারি কেবল আমার নয়, বাকিদের জীবনেও দারুণ পরিবর্তন আনবে। আমাদের এক বন্ধু বহু বছর ধরে পরিবার থেকে দূরে রয়েছে। আরেকজনের সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে। আরেকজন সদ্য বাবা হয়েছেন। সকলের জন্য আমি খুব খুশি। সূত্র: খালিজ টাইমস