আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পাওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় সোনার দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বড় কোনো লাফ দিতে পারেনি। খবর রয়টার্স
আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার স্পট সোনার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪০ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগের কার্যদিবসে মূল্যবান এই ধাতুর দাম গত ২৩ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
এদিকে আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৪ দশমিক ৯০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে স্যাক্সো ব্যাংকের প্রধান পণ্য কৌশলবিদ ওলে হ্যানসেন বলেন, টানা দুই দিন বড় পতনের পর সোনার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার আরো বাড়ার যে গুঞ্জন রয়েছে, তা সোনার বাজারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বানের পর ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে। সাধারণত তেলের দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সোনাকে সাধারণত মূল্যস্ফীতিজনিত লোকসান মোকাবেলার হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো অলাভজনক সম্পদে বিনিয়োগ কমিয়ে দেন। ফলে সোনার আকর্ষণ কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে কর্মসংস্থানের শক্তিশালী প্রতিবেদন আসার পর চলতি বছরই সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেবে, তা বুঝতে বিনিয়োগকারীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মে মাসের মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) এবং উৎপাদক মূল্য সূচকের (পিপিআই) প্রতিবেদনের জন্য। বুধবার (১০ জুন) ও বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এই তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
ওলে হ্যানসেন এই প্রসঙ্গে বলেন, বুধবার মার্কিন সিপিআই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী ১৭ জুনের এফওএমসি বৈঠকের দিকেও সবার নজর থাকবে, কারণ বাজার এখন ফেডের নতুন চেয়ারম্যানের বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে।
শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখন আগামী ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৬৮ শতাংশ ধরে নিয়ে বাজারে লগ্নি করছেন।
সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় গত শুক্রবার থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সোনার দাম ‘২০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ’ বা গড় দামের নিচে নেমে গেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম এমনটি ঘটল।
বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটির বিশ্লেষকেরা এক পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, ২০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজের নিচে দাম নেমে যাওয়া কারিগরি দিক থেকে একটি নেতিবাচক সংকেত। এর অর্থ হচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে সোনার দাম আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সোনার পাশাপাশি আজ আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কিছুটা বেড়েছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৫৬ ডলারে উঠেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৬৯ দশমিক ৮৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৩৮ দশমিক ৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।