রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৯:৪৬

হঠাৎ কেন তরতরিয়ে কমছে স্বর্ণের দাম? জানা গেল যা

হঠাৎ কেন তরতরিয়ে কমছে স্বর্ণের দাম? জানা গেল যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বে যখনই যুদ্ধসহ অন্য যে কোনো সমস্যা দেখা দেয় তখনই বেড়ে যায় সোনার দাম। কারণ বিনিয়োগকারীরা মুদ্রাস্ফীতির বিপরীতে সোনাকে বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ বস্তু হিসেবে বিবেচনা করেন।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চললেও এবার এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। এর বদলে সোনার দাম কমছে।

জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৫ হাজার ৩০৩ ডলার। গত শুক্রবার (১২ জুন) এটি নেমে আসে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে।

কারণ কী?
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো হয়ত সুদের হার কমাবে না। উল্টো দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে তারা সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে করে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীরা খুব বেশি আগ্রহী হচ্ছেন না।

বর্তমান এই মুদ্রাস্ফীতির বড় একটি কারণ হলো হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলার প্রতিবাদে যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ অবরোধ করে রেখেছে ইরান। এতে করে গ্যাস ও তেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। যার প্রভাবে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি।

যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া দেশটির চাকরির বাজারও থমকে আছে। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার কমাবে এমন কোনো সম্ভাবনা খুবই কম।

বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলার একটি হাতিয়ার (হেজ) হিসেবে কাজ করলেও, উচ্চ সুদের হার সাধারণত এই মূল্যবান ধাতুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সোনাকে মূলত একটি ‘মুনাফাহীন’ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ নিজস্ব মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া এটি থেকে বাড়তি কোনো আয় বা লভ্যাংশ আসে না। অন্য কথায়, সোনা থেকে মুনাফা করতে হলে কেবল এর বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ওপরই নির্ভর করতে হয়।

আলজাজিরাকে আর্থিক খাতের ওয়েবসাইট 'অপশনস্প্রেডার্স ডটকমের’ প্রধান অপশন অ্যানালিস্ট জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেন, "যেকোনো সম্পদের তুলনায় সোনা প্রকৃত অর্থের (টাকার) সবচেয়ে কাছাকাছি একটি রূপ। এখান থেকে কোনো লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, আবার দাম না বাড়া পর্যন্ত এর বাড়তি কোনো মূল্যও তৈরি হয় না। মানুষ মূলত মূল্যবৃদ্ধির ওপর ভরসা করেই সোনা কেনে।"

যা সুদহার বৃদ্ধি ও সোনাকে সরাসরি প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলে।— যোগ করেন জাস্টিন কার্ডওয়েল।

তিনি বলেছেন, “সুদহার বেশি থাকলে সোনা বিনিয়োগ হিসেবে তার ক্ষমতা হারায় এবং মানুষ তখন বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকে।”

নোবেল গোল্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কলিন প্লাম আলজাজিরাকে বলেছেন, “যখন ডলার শক্তিশালী হয় তখন সোনা চাপটি টের পায়। যখন ডলার দুর্বল থাকে তখন সোনার দাম বাড়ে। বর্তমানে ডলার শক্তিশালী। যার চাপটি টের পাচ্ছে সোনা।”

তবে সামনে কি হবে সেটি নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন কলিন প্লাম। সূত্র: আলজাজিরা

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে