আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলায় বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় কম্পন হিসেবে বিবেচিত হলেও, বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর তালিকায় এগুলো জায়গা পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ১০টি ভূমিকম্পের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ১৯৬০ সালে চিলির বায়োবিও অঞ্চলে আঘাত হানা ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে অন্তত এক হাজার ৬৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় আঘাত ৯ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প, যাতে নিহত হন ১৩০ জন।
তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় আঘাত হানা ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প। ওই ভূমিকম্প দুই লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় ১০০ ফুট উঁচু সুনামি আছড়ে পড়ে। আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয় এই ভূমিকম্পটি।
তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে ২০১১ সালে জাপানের তোহোকু অঞ্চলে আঘাত হানে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটে।
রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ১৯৫২ সালে সংঘটিত ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে রাশিয়ার একই অঞ্চলে ২০২৫ সালে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত। তবে ওিই ভূমিকেম্পে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
এছাড়া ১৯০৬ সালে ইকুয়েডরের এসমেরালদাস অঞ্চলে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় এক হাজার ৫০০ জন নিহত হন। ২০১০ সালে চিলির বায়োবিও অঞ্চলে একই মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ হারান ৫২৩ জন।
তালিকার নবম স্থানে রয়েছে ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় আঘাত হানা ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প, যেখানে কোনো প্রাণহানি হয়নি। এছাড়া দশম স্থানে ১৯৫০ সালে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে সংঘটিত ৮ দশকি ৬ মাত্রার ভূমিকম্পটি রয়েছে। ওই ভূমিকম্পে ৭৮০ জনের মৃত্যু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ভূমিকম্পের মাত্রা যত বড়ই হোক না কেন, প্রাণহানির পরিমাণ অনেকাংশে নির্ভর করে জনঘনত্ব, অবকাঠামোর মান, প্রস্তুতি এবং সুনামির মতো পরবর্তী দুর্যোগের ওপর। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা