আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এর ফলে ২০১৩ সালের পর এবারই প্রথম এক প্রান্তিকে (তিন মাসে) স্বর্ণের সবচেয়ে বড় মূল্যপতন দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে। তবে এটি এখনো ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। চলতি মাসে স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমেছে, যা টানা চতুর্থ মাসিক পতন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের পর প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক লোকসানে পড়েছে স্বর্ণের বাজার।
স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, স্বর্ণবাজারে বর্তমানে দুর্বল মনোভাব স্পষ্ট। সামান্য মূল্যবৃদ্ধি হলেই বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর প্রবণতার বিপরীত। তার মতে, বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হয়েছে বলে মনে করতে হলে প্রতি আউন্স মূল্যকে অন্তত ৪ হাজার ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার কমার সম্ভাবনা কমে গেছে। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা বর্তমানে ৬৪ শতাংশ।
সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তবে সুদহার বাড়ার সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীরা এখন লভ্যাংশহীন স্বর্ণের পরিবর্তে শক্তিশালী মার্কিন ডলারে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স রুপার দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৫৮ দশমিক ৬৪ ডলারে, প্ল্যাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৭৭ দশমিক ১৪ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.০৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৬৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। এর জেরে বিশ্ব তেলের বাজার ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতনের মুখোমুখি হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।