আন্তর্জাতিক ডেস্ক : একটি স্কুলের স্বাভাবিক সকাল মুহূর্তেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে পরিণত হয়। মুখোশ পরা একটি যুবক স্কুলে ঢুকে এক শিক্ষিকার খোঁজ করেন। শিক্ষিকা দেখা করতে বাইরে আসতেই শুরু হয় নির্মম হামলা। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়।
ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদের সিকরোনা গ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলে গত বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ২৯ বছর বয়সী শিক্ষিকা সন্ধ্যাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। স্কুলটি একটি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত।
স্কুল প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন সকালে এক যুবক স্কুলের প্রধান ফটকে এসে সন্ধ্যার সঙ্গে দেখা করার কথা বলেন। শিক্ষিকা গেটে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতেই ওই যুবক ছুরি নিয়ে হামলা চালান। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে তিনি শিক্ষিকার মুখ, গলা ও বুকে ৩০টিরও বেশি ছুরিকাঘাত করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশধারী যুবকটি স্কুলে ঢুকে লবিতে অপেক্ষা করছিলেন। শিক্ষিকাকে দেখতে পেয়েই তিনি ইশারায় বাইরে যেতে বলেন।
শিক্ষিকা বাইরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হামলাকারী তার গলা চেপে ধরে বাইরে টেনে নিয়ে যান ও একের পর এক ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিক্ষিকা মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও হামলাকারী থামেননি, মাটিতে পড়ে থাকা শিক্ষিকার ওপরও ছুরিকাঘাত চালিয়ে যান।
চিৎকার শুনে স্কুলের প্রশাসক ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারী তার দিকেও ছুরি নিয়ে তেড়ে যান। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারী প্রশাসককে ভয় দেখান।
এরপর হামলাকারী আবারও মাটিতে পড়ে থাকা শিক্ষিকার কাছে ফিরে গিয়ে তার পেট ও মুখে আরও প্রায় ২০ বার ছুরিকাঘাত করেন। পরে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কুল প্রশাসক বলেন, সেদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি নিজের কক্ষে বসে ছিলেন। হঠাৎ করিডোর থেকে চিৎকার শুনে বাইরে বেরিয়ে যান।
তিনি বলেন, আমি দেখলাম, শিক্ষিকা সন্ধ্যা মাটিতে পড়ে আছেন ও এক ব্যক্তি বারবার তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করছেন।
তিনি হামলাকারীকে থামতে বললে ওই ব্যক্তি হাতে থাকা ছুরি নিয়ে তাকেও ভয় দেখান। আত্মরক্ষার জন্য কিছু খুঁজতে যাওয়ার আগেই হামলাকারী পালিয়ে যান। পরে তিনি আহত সন্ধ্যাকে স্থানীয় আল-ফালাহ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্লীলতাহানির মামলা করেছিলেন নিহত শিক্ষিকা
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ২১ বছর বয়সী অমিতকে ঘটনার দুই ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়। তিনি কোট গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে অমিতের সঙ্গে সন্ধ্যার পরিচয় হয়। এরপর বিভিন্ন সময় তিনি সন্ধ্যার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সন্ধ্যা তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে অনাগ্রহী ছিলেন। তা সত্ত্বেও অমিত বারবার তাকে অনুসরণ করতে থাকেন বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
এই ধারাবাহিক হয়রানিতে বিরক্ত হয়ে সন্ধ্যা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি অমিতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগও দায়ের করেন। তবে সে সময় অভিযুক্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
পুলিশের ধারণা, আগের ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই অমিত এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি