সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:২৮:২১

জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ল

জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি নিয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও নতুন করে বাড়ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম একপর্যায়ে প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছায়। পরে দাম কিছুটা কমলেও আগের তুলনায় ৭২ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার্স ৪৪ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) পরিচালিত ট্যাংকারে হামলা এবং সৌদি আরামকোর একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর গত সপ্তাহেই উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

এর মধ্যে সপ্তাহান্তে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কিছুটা বেশি দামে পেট্রোল কেনার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ফিলিপ নোভার মার্কেট ইনসাইটসের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেভার মতে, আগস্টের শুরুতে নিম্নমুখী থাকার পর তেলের দাম এখন প্রায় পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বাজারে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব আবারও জোরালো হয়েছে।

তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে বড় ধরনের হামলা বা আগ্রাসনের স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া গেলে তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা সীমিত বলে মনে করছেন তিনি। বিশেষ করে ট্যাংকার বা গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না এলে বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি নাও হতে পারে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে হামলার পর সপ্তাহান্তে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। রোববার কোনো পণ্যবাহী জাহাজই প্রণালিটি পার হয়নি। অথচ আগের সপ্তাহান্তে ৩১টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করেছিল।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত শুক্রবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী এডিএনওসি পরিচালিত তৃতীয় একটি জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রণালিতে এডিএনওসির জাহাজকে ঘিরে ঘটে যাওয়া আরও দুটি ঘটনার জন্যও ইরানকে দায়ী করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে