আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব রকেট ডিজাইন, নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের সুযোগ নিয়ে আবারও শুরু হচ্ছে নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ সালের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে কলেজ ও ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি যোগ্য মিডল ও হাইস্কুল পর্যায়ের দলগুলো আবেদন করতে পারবে। নাসার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবেদন বা প্রপোজাল জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল টাইম।
নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ মূলত ৯ মাসব্যাপী একটি ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। এতে নির্বাচিত শিক্ষার্থী দলগুলোকে একটি হাই-পাওয়ার রকেট ডিজাইন, তৈরি, পরীক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত উৎক্ষেপণ করতে হয়। রকেটের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বা ইঞ্জিনিয়ারিং পেলোডও তৈরি করতে হয়। ফলে এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব মহাকাশ ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ কাছ থেকে শেখার সুযোগ।
পুরো কর্মসূচিটি পরিচালনা করে আলাবামার হান্টসভিলে অবস্থিত নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের অফিস অব স্টেম এনগেজমেন্ট। চ্যালেঞ্জের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকৌশল বিষয় তৈরিতে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম এবং আর্টেমিস কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডাস্ট্রি পার্টনাররা যুক্ত থাকেন।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো কলেজ বা ইউনিভার্সিটি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগে অংশ নেওয়ার জন্য প্রপোজাল জমা দিতে পারে। এটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ এবং প্রপোজাল যাচাইয়ের পর দল নির্বাচন করা হয়।
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগ। তবে এই পর্যায়ে সরাসরি সব স্কুল আবেদন করতে পারবে না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আমেরিকান রকেট্রি চ্যালেঞ্জের শীর্ষ ২৫টি স্কুল এবং রকেটস ফর স্কুলস প্রতিযোগিতার ক্লাস টু বিভাগের শীর্ষ সাতটি স্কুল নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রপোজাল জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে।
একটি স্কুল থেকে সর্বোচ্চ একটি দল অংশ নিতে পারবে।
চ্যালেঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিক্ষার্থীদের কাজ অনেকটাই নাসার বাস্তব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ার আদলে পরিচালিত হয়। নির্বাচিত দলকে ধাপে ধাপে প্রিলিমিনারি ডিজাইন রিভিউ, ক্রিটিক্যাল ডিজাইন রিভিউ, ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ এবং লঞ্চ রেডিনেস রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে শেষ করেই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হবে।
রকেট উৎক্ষেপণের পরও কাজ শেষ হবে না। শিক্ষার্থীদের রকেটের ফ্লাইট ও পেলোড থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে এবং পোস্ট লঞ্চ অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ডিজাইন, পরীক্ষা, উৎক্ষেপণ এবং ফলাফল বিশ্লেষণ পর্যন্ত পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং লাইফসাইকেলের অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করে নাসা।
২০২৭ সালের স্টুডেন্ট লঞ্চের চূড়ান্ত আয়োজন হবে আলাবামার হান্টসভিলে। নাসার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, লঞ্চ ডে নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ এপ্রিল ২০২৭। এখানেই বিভিন্ন দলের তৈরি হাই-পাওয়ার রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে।
নাসা বলছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের রকেট বানানো শেখানো নয়। ভবিষ্যতের স্টেম ও অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি তৈরির জন্য বাস্তব গবেষণা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আগ্রহী করে তোলার বিষয়টিও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।
আগ্রহী কলেজ ও ইউনিভার্সিটি এবং যোগ্য স্কুল দলগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ১৪ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার মধ্যেই নাসার কাছে প্রপোজাল জমা দিতে হবে।