আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এমজেডিএ) নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আবেদন করলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'একটি ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে চুক্তিটি এমন দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত, যারা যৌথ দায়িত্ব ও অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।'
তাহির আন্দ্রাবি আরও বলেন, 'কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এলে রিয়াদ ও আঙ্কারার অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করে তা বিবেচনা করা হবে।'
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর লক্ষ্য আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
তবে চুক্তিটির কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংসদে বলেন, যদি বাংলাদেশকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় তাহলে তারা অবশ্যই বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগে তারা এর ভালো ও খারাপ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'এটা আমাদের পরিবার। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে অন্যান্যদের উদ্বেগের অবকাশ নেই।'
চলতি মাসের ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই চুক্তি করা হয়েছে। নতুন সদস্য যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়টিও এতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র : আরব নিউজ