শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৫:২৬

দীর্ঘ ৩৬ বছর পর এই প্রথম এমন ঘটনা সৌদি আরবে

দীর্ঘ ৩৬ বছর পর এই প্রথম এমন ঘটনা সৌদি আরবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন আগস্টে কমে দৈনিক ৬২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে নেমেছে, যা ১৯৯০ সালের পর দেশটির সর্বনিম্ন উৎপাদন। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর এই প্রথম এমন ঘটনা সৌদি আরবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব সরাসরি ওপেককে জানিয়েছে, জুলাইয়ের দৈনিক ৮১ লাখ ব্যারেল থেকে আগস্টে উৎপাদন প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল কমেছে।

জুনে সৌদির দৈনিক তেল উৎপাদন ছিল ৭১ লাখ ব্যারেল। জুলাইয়ে তা দ্রুত বেড়ে গেলেও আগস্টে আবার বড় ধরনের পতন ঘটে।

সৌদি আরব ও ওপেক প্লাসের অন্য সদস্যরা আগস্টে তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনার বিপরীতে সৌদির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

উৎপাদন কমার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি সংঘাতের এলাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। পারস্য উপসাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগর দিয়ে বিকল্প রপ্তানি পথও এখন ঝুঁকির মুখে।

হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চলের রপ্তানি অবকাঠামোর ওপর বেশি নির্ভর করছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ইয়ানবুকেন্দ্রিক এই বিকল্প পথও জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে চাপে পড়ে। ২০ জুলাই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত নতুন একটি ফ্রন্ট হিসেবে তারা এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।

এরপর সৌদিসংশ্লিষ্ট জাহাজ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি করে হুতিরা। ইয়ানবু ও জাজান তেল শোধনাগার ঘিরে হামলার আশঙ্কায় ট্যাংকারগুলো নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে চলাচল শুরু করে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের তথ্য বলছে, আগস্টে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কে-প্লার ও ভর্টেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ইয়ানবু বন্দর থেকে সৌদি অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট রপ্তানি ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

ভর্টেক্সার হিসাবে, আগস্টে ইয়ানবু থেকে দৈনিক ৩২ লাখ ব্যারেল তেল ও কনডেনসেট রপ্তানি হয়েছে। অন্যদিকে কেপ্লারের হিসাব আরও কমে দৈনিক মাত্র ১৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল কমেছে। প্রাথমিক জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বুধবার এই জলপথ দিয়ে মাত্র সাতটি জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের ১০ দিনের গড় ছিল ১৪টি। তবে সৌদি আরবের উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহের পরিসংখ্যানে বড় পার্থক্য দেখা গেছে।

ওপেককে দেওয়া সৌদির সরাসরি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটি বাজারে দৈনিক ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করেছে। অথচ একই সময়ে দেশটির রিপোর্ট করা উৎপাদন ছিল দৈনিক ৬২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল।

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে এই ব্যাপক বিঘ্ন বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে সরবরাহ আরও সংকুচিত করেছে। এর প্রভাবে তেলের দামও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নতুন করে সংঘাত এবং জাহাজে হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে