শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:০৮:২৯

একই গাড়ীতে চড়লেন পুতিন ও মোদি

একই গাড়ীতে চড়লেন পুতিন ও মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কূটনীতিতে সাধারণত নেতাদের বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমেই সম্পর্কের বার্তা দেওয়া হয়। তবে এবার গাড়িও যেন সেই কূটনীতির অংশ হয়ে উঠেছে।

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একই লিমুজিনে করে ‘ভারত মণ্ডপম’ চত্বরে যান।

গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের সময় প্রথমবার পুতিনের সঙ্গে একই গাড়িতে ভ্রমণ করেন মোদি। এরপর আরও দুবার তারা একসঙ্গে গাড়িতে ভ্রমণ করেন। শুক্রবারের ঘটনাটি ছিল তাদের চতুর্থ যৌথ গাড়ি যাত্রা।

বৈঠকের পর দুই নেতা ‘ভারত মণ্ডপম’-এ আয়োজিত ইন্নোপ্রম প্রদর্শনীতে যান। ইন্নোপ্রম একটি আন্তর্জাতিক শিল্প ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী। এখানে বিভিন্ন দেশের নির্মাতা ও ক্রেতারা অংশ নেন। নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘তিরুক্কুরাল’ গ্রন্থের রুশ ভাষার অনুবাদ উপহার দেন। প্রাচীন তামিল কবি ও দার্শনিক তিরুবল্লুভারের লেখা এই গ্রন্থে মানবজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। পুতিনকে মোদি বলেন, প্রায় দুই হাজার বছর আগে তিরুবল্লুভার ‘তিরুক্কুরাল’ লিখেছিলেন। রুশ ভাষায় এর অনুবাদ দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরো বাড়াবে এবং ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মোদি বলেন, তিনি পুতিনকে ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দিয়েছেন।

এই বই তিরুবল্লুভারের জ্ঞান ও দর্শনকে ভাষা ও দেশের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রাশিয়া ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং সামরিক সরঞ্জামের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী দেশ। ব্রিকস সম্মেলনের আগে নয়াদিল্লিতে দুই নেতাকে হাসিমুখে একে অপরের পিঠ চাপড়ে শুভেচ্ছা জানাতেও দেখা যায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ভারত-রাশিয়ার ‘বিশেষ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মোদি ও পুতিন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এসব বিষয় ভারত-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ছাড়া পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের সংঘাতসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও তারা আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, সংঘাত সমাধানের সবচেয়ে ভালো পথ হলো আলোচনা ও কূটনীতি। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। পুতিন সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারত সফর করেছিলেন। তবে চলতি মাসের শুরুতে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতার আবারও সাক্ষাৎ হয়।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে