আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অ্যানড্রয়েড ও আইওএস ফোল্ডেবল বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় অ্যাপল নিয়ে এসেছে তাদের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন আইফোন ডুও, যা সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ মডেলকে। ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে এই দুই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের পারফরম্যান্স, ডিজাইন ও ফিচারের লড়াই এখন প্রযুক্তিপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
মূল্য ও ভ্যারিয়েন্ট
স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড এইট ফোনটির ১২ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ মডেলের দাম শুরু হচ্ছে ভারতে ১ লাখ ৭৯ হজার ৯৯৯ রুপি থেকে এবং এর সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৯ রুপি। অন্যদিকে অ্যাপল আইফোন ডুও মডেলটির ২৫৬ জিবি বেস সংস্করণের দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ রুপি এবং এর সর্বোচ্চ ২ টিবি মডেলের দাম ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ রুপি। নতুন এই আইফোনটির প্রি-অর্ডার শুরু হবে আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে এবং বিক্রি শুরু হবে ২৩ অক্টোবর।
ডিসপ্লে এবং ডিজাইন
ডিজাইন ও ডিসপ্লের ক্ষেত্রে স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড এইট ফোনে রয়েছে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট এবং ৩০০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসসহ ৭.৬ ইঞ্চির ডাইনামিক অ্যামোলেড টু এক্স ইননার স্ক্রিন এবং ৫.৫ ইঞ্চির আউটার কভার ডিসপ্লে। ফ্লেক্স টাইটানিয়াম টেকনোলজি ও আইপি৪৮ রেটিংযুক্ত এই ফোনটির ওজন ২০১ গ্রাম। অন্যদিকে অ্যাপল আইফোন ডুও ফোনে রয়েছে ন্যানো-টেক্সচার ফিনিশযুক্ত ৭.৬ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর ইননার ফোল্ডেবল ডিসপ্লে এবং ৫.৪ ইঞ্চির আউটার স্ক্রিন। ফিজিক্যাল সিম বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ ই-সিম ডিজাইনে তৈরি এই ফোনের দুই স্ক্রিন ও রিয়ার প্যানেলে সিরামিক শিল্ড প্রোটেকশন ব্যবহার করা হয়েছে।
পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার
পারফরম্যান্সের দিক থেকে গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড এইট পরিচালিত হয় কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন এইট এলিট জেন ফাইভ ফর গ্যালাক্সি চিপসেটের মাধ্যমে। অন্যদিকে আইফোন ডুও ফোনে রয়েছে টু ন্যানোমিটার প্রসেসে তৈরি এ টুয়েন্টি প্রো চিপসেট, ডুয়াল নিউরাল ইঞ্জিন এবং অ্যাপলের নিজস্ব সি টু মডেম। সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে স্যামসাংয়ের ফোনটি অ্যানড্রয়েড সেভেনটিন ভিত্তিক ওয়ান ইউআই নাইন এবং আইফোন ডুও ফোল্ডেবল স্ক্রিনের উপযোগী কাস্টমাইজড আইওএস টুয়েন্টি সেভেন অপারেটিং সিস্টেমে চলে।
ক্যামেরা ও ব্যাটারি
ক্যামেরা বিভাগে স্যামসাংয়ের ফোল্ডেবলটিতে রয়েছে ডুয়াল ৫০ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা এবং ৩০ এফপিএসে এইট কে ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা। অন্যদিকে অ্যাপল আইফোন ডুও ফোনে রয়েছে ফিউশন মেইন ও আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা এবং এটি ফোর কে রেজুলেশনে প্রতি সেকেন্ডে ১২০ ফ্রেম পর্যন্ত ভিডিও রেকর্ডিং সাপোর্ট করে। ব্যাটারি ও চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে স্যামসাং দিচ্ছে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সমর্থিত ৪৮০০ এমএএইচ ব্যাটারি। পক্ষান্তরে অ্যাপল দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ ও ম্যাগসেফ ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের পাশাপাশি মাত্র ৫ মিনিট চার্জেই পাঁচ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাকের সুবিধা দাবি করছে।