স্মার্টফোন এখন শুধু ছবি তোলার জন্যই নয়, বরং উচ্চমানের ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও পেশাদার ক্যামেরার দুর্দান্ত বিকল্প হয়ে উঠেছে। বর্তমানের ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোতে উন্নত সেন্সর, অপটিক্যাল ও ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলাইজেশন, কালার রিপ্রোডাকশন এবং কম আলোয় নিখুঁত ভিডিও ধারনের সুবিধা মিলছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ভ্লগাররা এখন আলাদা ক্যামেরার বদলে এই প্রিমিয়াম স্মার্টফোনগুলোই বেছে নিচ্ছেন। ৪কে রেজোলিউশনে প্রতি সেকেন্ডে ১২০ ফ্রেম পর্যন্ত ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধা থাকায় দ্রুতগতির দৃশ্যও অত্যন্ত মসৃণভাবে ধারণ করা সম্ভব। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের দিক থেকে সেরা ৫টি ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের প্রধান ফিচারগুলো এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলো।
১. আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স
ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এই মডেলটি অন্যতম শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে পরিচিত। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এতে রয়েছে প্রফেশনাল ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা। এর পেছনে রয়েছে ট্রিপল ক্যামেরা—৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৪৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা (৪ গুণ অপটিক্যাল জুম) এবং সামনে রয়েছে অটোফোকাস সমর্থিত ১৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ভিডিও ফিচারের মধ্যে রয়েছে ৪কে ডলবি ভিশন রেকর্ডিং, প্রতি সেকেন্ডে ১২০ ফ্রেম পর্যন্ত ৪কে প্রোরেস রেকর্ডিং এবং চলন্ত অবস্থায় স্থিরতা বজায় রাখতে বিশেষ অ্যাকশন মোড। পারফরম্যান্স ও ডিসপ্লের জন্য এতে রয়েছে অ্যাপলের এ১৯ প্রো চিপ এবং ৬.৯ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর ওএলইডি ডিসপ্লে (১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট)। একবার চার্জে ৩৭ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক সম্ভব এবং ৪০ ওয়াট দ্রুত চার্জিং সমর্থিত।
২. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা
অ্যানড্রয়েডপ্রেমীদের জন্য ভিডিও ধারণে এটি একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং বহুমুখী অপশন। পেছনে রয়েছে কোয়াড ক্যামেরা—২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সর, দুটি ৫০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা এবং একটি আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা, আর সামনে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের জন্য এতে রয়েছে সুপার স্টেডি মোডের সঙ্গে হরাইজন্টাল লক এবং উচ্চমানের ভিডিওর জন্য অ্যাডভান্সড প্রফেশনাল ভিডিও (এপিভি) স্ট্যান্ডার্ড সমর্থন। পারফরম্যান্স ও ডিসপ্লের দিক থেকে এটি স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসর, ৬.৯ ইঞ্চির কিউএইচডি+ ডায়নামিক অ্যামোলেড ২এক্স ডিসপ্লে এবং ৫,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি (৬০ ওয়াট তারযুক্ত ও ২৫ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং) দিয়ে চালিত।
৩. গুগল পিক্সেল ১০ প্রো এক্সএল
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফির ওপর ভিত্তি করে চমৎকার ভিডিও ফিচারের জন্য এটি আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা মডিউলে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ম্যাক্রো ফোকাস সমর্থিত ৪৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা (৫ গুণ অপটিক্যাল ও ১০০ গুণ প্রো রেস জুম), আর সামনে রয়েছে ৪২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ভিডিও বুস্টের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে ৩০ ফ্রেম পর্যন্ত ৮কে ভিডিও এবং ৪কে ভিডিও (২৪, ৩০ ও ৬০ এফপিএস) রেকর্ডিং করা যায়। পাশাপাশি এতে রয়েছে নাইট সাইট ভিডিও, সিনেম্যাটিক ব্লার এবং সিনেম্যাটিক প্যানের মতো আকর্ষণীয় ফিচার। প্রসেসরের ক্ষেত্রে এতে রয়েছে গুগলের টেনসর জি৫, ৬.৮ ইঞ্চির সুপার অ্যাকচুয়া এলটিপিও ওএলইডি ডিসপ্লে (১২০ হার্টজ) এবং ৫,২০০ এমএএইচ ব্যাটারি।
৪. ভিভো এক্স৩০০ আল্ট্রা
জাইস (Zeiss) অপটিক্সের সুবাদে ভিডিও ও ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের জন্য এটি একটি অসাধারণ ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস। এর ক্যামেরায় রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের জাইস গিম্বল-গ্রেড এপিও টেলিফটো ক্যামেরা, ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা, আর সামনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। ভিডিও ফিচারের মধ্যে রয়েছে মাল্টি-ফোকাল ভিডিও রেকর্ডিং এবং ডলবি ভিশন সহ প্রতি সেকেন্ডে ১২০ ফ্রেম পর্যন্ত ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং। পারফরম্যান্স ও ডিসপ্লের জন্য এতে রয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৯৫০০ প্রসেসর, ৬.৭৮ ইঞ্চির ১.৫কে এলটিপিও অ্যামোলেড ডিসপ্লে (১২০ হার্টজ) এবং ৬,৫১০ এমএএইচ ব্যাটারি (৯০ ওয়াট তারযুক্ত ও ৪০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং)।
৫. শাওমি ১৭ আল্ট্রা
লেইকা (Leica) ব্র্যান্ডের অপটিক্স সমৃদ্ধ এই ফোনটিতে দুর্দান্ত ছবি ও ভিডিওর দারুণ সমন্বয় পাওয়া যায়। ক্যামেরা সেটআপে রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা, ১ ইঞ্চির ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সর এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা, এবং সামনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতি সেকেন্ডে ৩০ ফ্রেম পর্যন্ত ৮কে ভিডিও এবং প্রতি সেকেন্ডে ১২০ ফ্রেম পর্যন্ত ৪কে ডলবি ভিশন ভিডিও রেকর্ড করা যায়, যার সাথে রয়েছে শুটস্টেডি রেকর্ডিং ও নাইট ভিডিও মোড। পারফরম্যান্স ও ডিসপ্লের ক্ষেত্রে এতে রয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসর, ৬.৯ ইঞ্চির ওএলইডি ডিসপ্লে (১২০ হার্টজ) এবং ৬,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি (৯০ ওয়াট তারযুক্ত ও ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং)।