শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:২৩:০৫

৮ গ্রামে সশস্ত্র হামলা, ঘরবাড়িতে আগুন, মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা

৮ গ্রামে সশস্ত্র হামলা, ঘরবাড়িতে আগুন, মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতায় একই সময়ে অন্তত আটটি গ্রামে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে তামেনংলং, ননে ও কাংপোকপি জেলার এসব গ্রামে হামলার পাশাপাশি কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। গুলিতে পাওজাঙ্গাম চোংলোই (৩৬) নামে এক বিদ্যুৎকর্মী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুধবার ভোর ৪টার দিকে তামেনংলং ও কাংপোকপির সীমান্তবর্তী লসান, সংপিবুং ও টি খোলমুন—এই তিন কুকি-অধ্যুষিত গ্রামে ভারী অস্ত্র নিয়ে গুলি চালায় হামলাকারীরা। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কাজে যাওয়ার সময় গুলিতে বিদ্যুৎকর্মী পাওজাঙ্গাম চোংলোই নিহত হন।

হামলার পর লসান গ্রামের প্রধান কাংপোকপি থানায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করেন।

একই সময়ে কাংপোকপি ও ননে জেলার আরও পাঁচ নাগা-অধ্যুষিত গ্রাম—মাকুই চামরিউপিউ, লাংকা, থানাম্বা, তা জেইকাইফুন ও কাপনিংচিং মুক্তি—হামলার শিকার হয়। সশস্ত্র হামলার আতঙ্কে এসব গ্রামের বাসিন্দারা পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে আশ্রয় নেন।

কাপনিংচিং মুক্তি গ্রামে চারটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে গ্রামের সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবীরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পিছু হটে।

মাকুই চামরিউপিউ গ্রামের কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারের সঙ্গে ‘সাসপেনশন অব অপারেশন’ চুক্তির আওতায় থাকা কেএনএফ (পি), কেএনএফ (এন) ও কেআরএর মতো কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠন হামলায় জড়িত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মণিপুরে জাতিগত সংঘাত দীর্ঘদিনের। এই সংঘাতে হাজারো মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন, প্রাণহানিও ঘটেছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব রাজ্যের অর্থনীতিতেও পড়েছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।