শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৪:৪০

‘এই বাইক মনে হয় তেলের গন্ধেও চলে!’ অবিশ্বাস্য মাইলেজ ও সর্বাধিক বিক্রীত মোটরযান

‘এই বাইক মনে হয় তেলের গন্ধেও চলে!’ অবিশ্বাস্য মাইলেজ ও সর্বাধিক বিক্রীত মোটরযান


দেশে জ্বালানি তেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। এক লিটার পেট্রোল কিনতে এখন গুনতে হয় ১৬০ টাকা। অকটেনের দাম আরও বেশি, ১৬৫ টাকায় মেলে এই জ্বালানি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর থেকে মোটরসাইকেল চালকদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে যারা হায়ার সিসির বাইক চালান, তাদের জন্য তেলের খরচ সামলানো এখন বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে এখন অনায়াসেই আড়াই শ সিসির বাইক কিনে চালানো যায়, কিন্তু কথা হলো, যত সিসি বেশি, মাইলেজ তত কম।

তেলের এই আকাশচুম্বী দামের মধ্যেই পুরোনো দিনের বাইকপ্রেমীদের মনে আছে নিশ্চয়ই আশির এবং নব্বইয়ের দশকের কথা। সেসময় বাংলাদেশের সড়ক কাঁপানো হোন্ডার একটি কিংবদন্তি মোটরসাইকেলের কথা আজও অনেকের মনে পড়ে। যার মডেল ছিল ‘হোন্ডা কাব ৫০’ (Honda Cub 50)। এটি অনেকের কাছে ‘ডেলিস বাইক’ বা ‘কাব বাইক’ নাম পরিচিত ছিল। জাপানি হোন্ডার এই মডেলে মূলত ৪৯ সিসির একটি ইঞ্জিন ছিল, যা মাইলেজের দিক থেকে ছিল অতুলনীয়। সেই সময়কার প্রবীণ থেকে তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে একটি প্রচলিত কথা ছিল ‘এই বাইক মনে হয় তেলের গন্ধেও চলে!’

হোন্ডা কাব ৫০-এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ‘হোন্ডা সুপার কাব ৫০’ মডেলও বাজারে আনে হোন্ডা। আজও বাংলাদেশের কোনো কোনো সড়কে কালেভদ্রে এটি দেখা যায়। এই বাইকের বিশেষত্ব ছিল এতে কোনো ক্লাচ ছিল না; পিকআপ সামান্য মোচড়ালেই এটি চলতে শুরু করত। তবে এটি ছিল টু-স্ট্রোক ইঞ্জিনের বাইক, ফলে বর্তমানের আধুনিক বাইকের তুলনায় কিছুটা বেশি ধোঁয়া ও শব্দ হতো।

বিশ্বজুড়ে এর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস

১৯৫৮ সালে বাজারে আসার পর থেকেই হোন্ডা সুপার কাব বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব সাফল্য পায়। এটি ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং সর্বাধিক বিক্রীত মোটরযান হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করার পেছনে এই বাইকের অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকে অফিসগামী চাকরিজীবী, ছোট ব্যবসায়ী কিংবা মফস্বলের শিক্ষকদের কাছে এটি ছিল আস্থার প্রতীক।

কেন এই বাইক আজও মানুষের স্মৃতির মণিকোঠায়?
১. অবিশ্বাস্য মাইলেজ: বর্তমানের যেখানে লিটারে ৪০-৫০ কিলোমিটার পাওয়া কষ্টকর, সেখানে হোন্ডা ফিফটি লিটারে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বা তারও বেশি মাইলেজ দিত।

২. সহজ রক্ষণাবেক্ষণ: এর পার্টস সহজলভ্য ছিল এবং যেকোনো সাধারণ মেকানিক এটি খুব সহজেই ঠিক করতে পারত।

৩. ঝামেলাহীন ড্রাইভ: ক্লাচ বা গিয়ারের বাড়তি ঝামেলা না থাকায় যে কেউ খুব সহজেই এটি চালাতে পারত।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।