আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ববাজারে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম বেশ বড় ধাক্কা খেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার আরও বাড়াতে পারে এমন খবরের পর থেকেই এই মূল্যবান ধাতুটির দাম কমতে শুরু করেছে।
এর পাশাপাশি মার্কিন সরকারি বন্ডে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণ বিক্রি করে সেখানে টাকা ঢালছেন। ফলে এই সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের বাজার বেশ মন্দা যাচ্ছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪,২৭৪ ডলারে। চলতি সপ্তাহের হিসেব করলে দেখা যায়, ইতোমধ্যে স্বর্ণের দাম প্রায় ২.৪ শতাংশ কমে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার চিন্তা এবং সরকারি বন্ড থেকে বেশি লাভ পাওয়ার সুযোগ থাকার কারণেই স্বর্ণের চাহিদা কমছে। যেহেতু স্বর্ণ থেকে আলাদা করে কোনো সুদ বা লাভ পাওয়া যায় না, তাই ব্যাংক বা বন্ডের সুদের হার বেশি থাকলে বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। বিগত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে চার সপ্তাহেই স্বর্ণের বাজারে এমন টানা দরপতন দেখা গেল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। এর ফলে জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার ভয় তৈরি হয়। আর এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহেই মার্কিন ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আগামী অক্টোবর ও ডিসেম্বরে তা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে স্বর্ণের দাম যে সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছিল, তা থেকে হিসাব করলে দেখা যায় এ পর্যন্ত দাম প্রায় ১৯ শতাংশ পড়ে গেছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ থামানোর জন্য নিউ ইয়র্কে একটি সমঝোতার চেষ্টা চলছে। সেখানে ইরানকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে এবং জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। দরকষাকষির এই ইতিবাচক খবরের পর বাজারে জ্বালানি তেল না পাওয়ার ভয় কিছুটা দূর হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
শুধু স্বর্ণই নয়, বিশ্ববাজারে অন্যান্য ধাতুর দামও কমেছে। রুপা ও প্যালাডিয়ামের দামও এই সপ্তাহে বেশ কমে গেছে, ফলে সব মিলিয়ে মূল্যবান ধাতুর বাজারগুলো এখন মন্দা সময় পার করছে।