সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৪১:০৩

কী সুবিধা মিলবে এআই ল্যাপটপে? কোনটি কিনবেন?

কী সুবিধা মিলবে এআই ল্যাপটপে? কোনটি কিনবেন?

ল্যাপটপ কেনার সময় এখন শুধু প্রসেসর, র‍্যাম বা স্টোরেজ দেখলেই হচ্ছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় বাজারে আসছে বিশেষ হার্ডওয়্যারযুক্ত ‘এআই ল্যাপটপ’। কাজ, পড়াশোনা থেকে শুরু করে ভিডিও কল ও কনটেন্ট তৈরির মতো দৈনন্দিন কাজেও এসব ল্যাপটপে পাওয়া যাচ্ছে নতুন কিছু সুবিধা।

সাধারণ ল্যাপটপ দিয়ে ওয়েব ব্রাউজিং, ডকুমেন্ট তৈরি, ভিডিও দেখা বা অফিসের কাজ সহজেই করা যায়। তবে এআই ল্যাপটপে থাকা বিশেষ এনপিইউ (Neural Processing Unit) কিছু এআই কাজ সরাসরি ডিভাইসেই চালাতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে প্রসেসরের ওপর চাপ কমানো এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

এআই ল্যাপটপে কী সুবিধা মিলবে?
এআই ল্যাপটপের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে আলাদা এনপিইউ থাকে। এটি এআইভিত্তিক কিছু কাজ পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়। ভিডিও কলে ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন, শব্দ কমানো, স্বয়ংক্রিয় ট্রান্সক্রিপশন, ছবি সম্পাদনা বা স্মার্ট সার্চের মতো ফিচারে এর ব্যবহার হতে পারে।

উইন্ডোজ ও বিভিন্ন সফটওয়্যারে এআই ফিচার যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হার্ডওয়্যারের ব্যবহারও বাড়তে পারে।

অর্থাৎ এখন খুব বেশি কাজে না লাগলেও ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এনপিইউভিত্তিক আরো সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

কাজ ও পড়াশোনায় কতটা কাজে আসবে?
শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য এআই ল্যাপটপে থাকা এসব ফিচার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। নোট বা লেখার সারাংশ তৈরি, ভয়েস থেকে লেখা তৈরি, অনলাইন মিটিংয়ের কিছু কাজ সহজ করা কিংবা এআই সহায়তায় তথ্য খোঁজার মতো কাজে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

তবে সব এআই ফিচার যে সব ল্যাপটপে একইভাবে কাজ করবে, তা নয়। কোন প্রসেসর, এনপিইউ এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর সুবিধাগুলো নির্ভর করবে।

সাধারণ ল্যাপটপ কি তাহলে অপ্রয়োজনীয়?
একেবারেই নয়। সাধারণ ব্যবহারকারীর কাজ যদি মূলত ওয়েব ব্রাউজিং, মাইক্রোসফট অফিস, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও দেখা বা হালকা মাল্টিটাস্কিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে প্রচলিত ল্যাপটপই যথেষ্ট হতে পারে।

এআই ল্যাপটপের বাড়তি সুবিধা মূলত তাদের জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক, যারা নতুন এআই ফিচার ব্যবহার করতে চান অথবা ভবিষ্যতের সফটওয়্যার সুবিধার কথা মাথায় রেখে ডিভাইস কিনছেন।

এআই ল্যাপটপে যেসব বিষয় দেখবেন
ল্যাপটপ কেনার আগে শুধু ‘AI’ লেখা আছে কি না, তা দেখার পরিবর্তে প্রসেসর ও এনপিইউয়ের সক্ষমতা যাচাই করা ভালো। র‍্যাম, স্টোরেজ, ব্যাটারি, ডিসপ্লে ও ওজনও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে শিক্ষার্থী বা অফিসের কাজে প্রতিদিন ল্যাপটপ বহন করতে হলে ওজন ও ব্যাটারি ব্যাকআপ বিবেচনা করা জরুরি। আর ভিডিও এডিটিং বা গ্রাফিকসের মতো ভারী কাজ করলে শুধু এনপিইউ থাকলেই হবে না, প্রসেসর ও জিপিইউয়ের সক্ষমতাও দেখতে হবে।

বাজারে কোন ধরনের এআই ল্যাপটপ আছে?
বর্তমানে কোয়ালকম, ইন্টেল ও এএমডির বিভিন্ন প্রসেসরযুক্ত এআই ল্যাপটপ বাজারে রয়েছে। যেমন কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন এক্স, ইন্টেলের কোর আল্ট্রা এবং এএমডির রাইজেন এআই সিরিজের প্রসেসরে এনপিইউ যুক্ত রয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে কয়েকটি এআই ল্যাপটপের উদাহরণ হিসেবে লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৩এক্স, এইচপি ওম্নিবুক ৫ ও ওম্নিবুক ৩, আসুস ভিভোবুক ১৪, এসার অ্যাসপায়ার ৫ এআই পিসি, এসার অ্যাসপায়ার গো ১৪ এবং ডেল ১৫ এআইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব মডেলের মধ্যে কিছুতে ১৬ জিবি র‍্যাম ও ৫১২ জিবি এসএসডি রয়েছে। আবার কয়েকটি মডেলে ১৪ থেকে ১৫.৩ ইঞ্চি ডিসপ্লে, হালকা ওজন এবং দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে বাংলাদেশে কোনো মডেল কেনার আগে স্থানীয় বাজারে এর দাম, ওয়ারেন্টি, কনফিগারেশন ও বিক্রয়োত্তর সেবা যাচাই করা জরুরি। একই মডেলের দাম ও সুবিধা বাজারভেদে আলাদা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, এআই ল্যাপটপের মূল আকর্ষণ শুধু এআই অ্যাপ চালানো নয়। বিশেষায়িত হার্ডওয়্যার, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং ভবিষ্যতের সফটওয়্যার সুবিধার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতাই এসব ডিভাইসকে প্রচলিত ল্যাপটপ থেকে আলাদা করে। তবে আপনার কাজ যদি সাধারণ ব্যবহারের মধ্যেই সীমিত থাকে, তাহলে শুধু ‘এআই’ সুবিধার জন্য বাড়তি খরচ করার আগে নিজের প্রয়োজন বিবেচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।