মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬:২১

দাম ও পছন্দে কোনটি সেরা, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নাকি পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল?

দাম ও পছন্দে কোনটি সেরা, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নাকি পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল?

অ্যাপলের আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং গুগলের পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল—দুই ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনই বাজারে এসেছে ১ হাজার ২৯৯ ডলার প্রারম্ভিক মূল্যে। উভয় ডিভাইসেই রয়েছে ২৫৬ জিবি স্টোরেজ।

বড় ওএলইডি ডিসপ্লে, তিনটি রিয়ার ক্যামেরা, ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস চার্জিং, আইপি৬৮ সুরক্ষা এবং আধুনিক কানেক্টিভিটি সুবিধাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ফোন দুটি কাছাকাছি হলেও প্রসেসর, জুম ক্ষমতা, ব্যাটারি পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার অভিজ্ঞতায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।

ডিসপ্লে ও ডিজাইন

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে রয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির ওএলইডি ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ২ হাজার ৮৬৮ × ১ হাজার ৩২০ পিক্সেল। অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলে রয়েছে ৬.৮ ইঞ্চির সুপার অ্যাকচুয়া ওএলইডি ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ২ হাজার ৯৯২ × ১ হাজার ৩৪৪ পিক্সেল।

দুই ফোনেই ১২০ হার্টজ পর্যন্ত অ্যাডাপটিভ রিফ্রেশ রেট এবং অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে সুবিধা রয়েছে।

উজ্জ্বলতার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে গুগলের ফোন। পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৩ হাজার ৬০০ নিটস, যেখানে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে তা ৩ হাজার নিটস।

দুই ফোনেই অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম, স্টেরিও স্পিকার, আইপি৬৮ ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স, ওয়াই-ফাই ৭, ব্লুটুথ ৬, আলট্রা-ওয়াইডব্যান্ড কানেক্টিভিটি এবং ইউএসবি-সি পোর্ট রয়েছে। এছাড়া ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধাও রয়েছে। অ্যাপলের ম্যাগসেইফ এবং গুগলের পিক্সেলস্ন্যাপ—উভয়ই সর্বোচ্চ ২৫ ওয়াট চার্জিং সমর্থন করে।

পারফরম্যান্স

দুই ফোনের সবচেয়ে বড় পার্থক্য প্রসেসরে।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাপলের এ২০ প্রো চিপ, আর পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলে রয়েছে গুগলের টেনসর জি৬ প্রসেসর।

বিজিআর-এর উদ্ধৃত গিকবেঞ্চ ৬ পরীক্ষায় আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স সিঙ্গেল-কোরে ৪ হাজার ৭৩৫ এবং মাল্টি-কোরে ১২ হাজার ৫৪৫ স্কোর করেছে। অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলের স্কোর ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৬৯১ এবং ৭ হাজার ২০৩।

যদিও বেঞ্চমার্ক স্কোর সবসময় বাস্তব ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি তুলে ধরে না, তবে ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে কাঁচা প্রসেসিং ক্ষমতার দিক থেকে অ্যাপল এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে।

ক্যামেরা ও জুম

দুই ফোনেই আলট্রাওয়াইড ও টেলিফটো লেন্সসহ তিনটি রিয়ার ক্যামেরা রয়েছে। তবে জুম প্রযুক্তিতে তাদের পদ্ধতি ভিন্ন।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের ৪৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা ৪ গুণ অপটিক্যাল জুম, ৮ গুণ অপটিক্যাল-কোয়ালিটি জুম এবং সর্বোচ্চ ৪০ গুণ ডিজিটাল জুম সুবিধা দেয়।

অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলের ৪৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম এবং গুগলের এআই-নির্ভর প্রো জুম প্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১২০ গুণ পর্যন্ত জুম সমর্থন করে।

খুব বেশি জুমে পিক্সেল অতিরিক্ত বিস্তারিত ধরে রাখতে সক্ষম হলেও জুমের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এআই-নির্ভর ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা কিছুটা কমতে পারে।

অন্যদিকে ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ পছন্দ করেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য আইফোনে অ্যাপারচার, শাটার স্পিড এবং হোয়াইট ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণের মতো সুবিধা রয়েছে।    

ব্যাটারি ও চার্জিং

অ্যাপলের দাবি, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স সাধারণ ব্যবহারে সর্বোচ্চ ৩০ ঘণ্টা এবং ভিডিও প্লেব্যাকে সর্বোচ্চ ৪৫ ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।

গুগলের দাবি, পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল একবার চার্জে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় চলতে পারে।

বিজিআর-এর পরীক্ষায় দেখা গেছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স প্রায় ২৫ ঘণ্টার ভ্রমণ দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন-অন টাইম দিতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল সাধারণ ব্যবহারে প্রায় ৭ ঘণ্টা স্ক্রিন-অন টাইম দিয়েছে।

তবে তারযুক্ত চার্জিংয়ে এগিয়ে গুগলের ফোন। ৪৫ ওয়াট চার্জার ব্যবহার করলে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল মাত্র ৩০ মিনিটে প্রায় ৭৫ শতাংশ চার্জ হয়ে যায়।

সফটওয়্যার ও এআই

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স চলবে আইওএস ২৭-এ, আর পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ১৭।

দুই ফোনেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন ফিচার রয়েছে। অ্যাপলে রয়েছে সিরি এআই, আর গুগলে রয়েছে জেমিনি।

জেমিনি-নির্ভর ফিচারের সংখ্যা ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে পিক্সেল কিছুটা এগিয়ে। অন্যদিকে অ্যাপলের শক্তি হলো তাদের ডিভাইসগুলোর মধ্যে সমন্বিত ইকোসিস্টেম।

কোনটি বেশি উপযোগী?

একই ১ হাজার ২৯৯ ডলারের মূল্যে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল ভিন্ন ধরনের সুবিধা নিয়ে এসেছে।

কাঁচা পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং অ্যাপল ইকোসিস্টেমের জন্য আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এগিয়ে। অন্যদিকে বেশি জুম ক্ষমতা, দ্রুত তারযুক্ত চার্জিং এবং জেমিনি-নির্ভর বিস্তৃত এআই সুবিধার কারণে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল অনেক ব্যবহারকারীর কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে।

তবে শেষ পর্যন্ত কোন ফোনটি বেশি উপযোগী হবে, তা নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর পছন্দের অপারেটিং সিস্টেম, ক্যামেরা ব্যবহারের ধরন, বিদ্যমান ডিভাইস এবং চার্জিং চাহিদার ওপর। সূত্র: সামা টিভি 

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।