আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে এমন কিছু ঘটতে পারে, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চাপে ফেলবে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন বলে বৈঠকে উপস্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
বৈঠকে রাহুল গান্ধী বিরোধীদের আন্দোলনের গতি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর), নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক সূত্রের দাবি, রাহুল বলেন, আন্দোলনের কারণে সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তাই এই সময়ে আন্দোলনের চাপ আরও বাড়াতে হবে। তবে আগামী ছয় থেকে আট মাসে ‘বড় কিছু’ ঘটার বিষয়ে তার বক্তব্যের কোনো স্বাধীন সরকারি বা নিরপেক্ষ প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
বৈঠক শেষে দেশজুড়ে যৌথ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ইন্ডিয়া জোট। আগামী ২ থেকে ৮ অক্টোবর বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র রক্ষার পদযাত্রা’ করা হবে। এছাড়া ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে মিছিল করবেন।
বৈঠকে রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলো বিভিন্ন রাজ্যে পরস্পরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় সব জায়গায় একসঙ্গে আন্দোলন করা কঠিন হতে পারে বলে আলোচনা হয়। তবে রাহুলের বক্তব্য ছিল, রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের একসঙ্গে থাকতে হবে।
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ কলকাতার প্রসঙ্গও তোলেন রাহুল। সূত্রের দাবি, ইভিএমে কারচুপির অভিযোগের উদাহরণ হিসেবে তিনি দক্ষিণ কলকাতার কথা উল্লেখ করেন এবং সেখানে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে ইভিএমে কারচুপির এই অভিযোগ প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও রয়েছে।
রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার কথাও তিনি বৈঠকে জানিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। বিরোধী নেতাদের কাছেও থাকা তথ্য পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীরা একমত হন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আন্দোলন আরও জোরদার করার কথা বলেন। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রাহুল বলেন, এই লড়াই আরও বড় আকার নিচ্ছে। সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষায় বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ভবিষ্যতে সংবিধান রক্ষার জন্য যারা একজোট হয়েছিল, মানুষ তাদের মনে রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের নেতা ঘোষণা করা হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি। বৈঠকে তার বক্তব্য ও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হলেও জোটের নেতৃত্বের বিষয়টি আলাদা হিসেবেই রয়েছে।