আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা হয়েছে। এতে ভবনটির তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় মন্ত্রণালয়।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটলো।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিনগত রাতে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
এর আগে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে আরামকোর একটি সূত্র জানিয়েছিল, ধাহরানে কোম্পানিটির সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে কমপ্লেক্সের একটি অফিস ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনটির ওপরের তিনটি তলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন ওই সূত্র।
ধাহরানের এই কমপ্লেক্সে আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাকেন্দ্র রয়েছে। এখান থেকে স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, শোধনাগার ও তেল রপ্তানির টার্মিনালসহ বিস্তৃত অবকাঠামোর কার্যক্রম তদারক করা হয়।
এক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা
ইয়েমেনে নতুন করে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে গত এক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে হুথিরা।
এর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চার দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শনিবারের (১০ অক্টোবর) একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। পরবর্তী হামলাগুলোর কারণে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিমান চলাচলও বন্ধ রাখতে হয়েছে।
এদিকে, আরামকোর ধাহরান কমপ্লেক্সের আশপাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন রয়টার্সের ছয়টি সূত্র। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ধাহরানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে আহত চারজন
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ বুধবার (১৪ অক্টোবর) জানায়, রিয়াদে হুথিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ রাজধানীর ১৫টি বাড়ির সামান্য ক্ষতি করেছে।
আরামকোর সদর দপ্তর ও তেল শোধনাগারে হামলার হুমকি
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার জবাবে ‘কঠোর ও বেদনাদায়ক’ প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল হুথিরা। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তর ও রিয়াদের একটি তেল শোধনাগার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে।
সৌদি আরবের তেলশিল্পে কর্মরত ব্যক্তিদেরও সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে- এমন স্থাপনা থেকে দূরে থাকার সতর্কতা দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
মঙ্গলবার এর আগে হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি আরব সানায় হামলা চালাচ্ছে। একই দিন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি তেল ডিপো থেকে বেসামরিক নাগরিকদের দূরে থাকার সতর্কতা দেয়।
হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরা টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানার উপকণ্ঠে ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির সাবাহ কেন্দ্রীয় স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ওই স্থাপনাটি একটি জ্বালানি ডিপো।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটটি সাবাহ কেন্দ্রসহ আরও কয়েকটি স্থানে হামলার কথা স্বীকার করে। সৌদি আরব, ইয়েমেন ও আন্তর্জাতিক নৌপথের জন্য হুমকি তৈরি করার ক্ষেত্রে হুথিদের সক্ষমতা ‘নিষ্ক্রিয়’ করাই অভিযানের লক্ষ্য বলে জানায় তারা। সূত্র: রয়টার্স