বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২২:০৪

৫৮ সন্তানের বাবা হলেন ৫৭ বছর বয়সে, মনে রাখতে পারছেন না সব সন্তানের নাম!

৫৮ সন্তানের বাবা হলেন ৫৭ বছর বয়সে, মনে রাখতে পারছেন না সব সন্তানের নাম!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ৫৭ বছর বয়সী মুহাম্মদ সাদেক চার স্ত্রীর ঘরে জন্ম দেওয়া ৫৮ জীবিত সন্তানের বাবা। সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে ছোটটির বয়স মাত্র তিন মাস। কিন্তু এত বড় পরিবারের সব সন্তানের নাম মনে রাখতে পারেন না তিনি।চরম দারিদ্র্যের মধ্যে সংসার চালাতে গিয়ে প্রতিদিনই হিমশিম খেতে হয় সাদেককে। কখনো কখনো খাবার ছাড়াই ঘুমাতে যায় তার সন্তানরা। পরিবারের সবার জন্য জুতা কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেক শিশুকে খালি পায়েই চলাফেরা করতে হয়।বিবিসি গ্লোবাল উইমেনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

মুহাম্মদ সাদেকের মোট সন্তানসংখ্যা ৭০ ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৮ জন বেঁচে আছে। পরিবারের সদস্যদের বসবাস কাদামাটির তৈরি ঘরে। ঘরগুলোতে ঠিকমতো দরজা-জানালা নেই। পাতলা পর্দা দিয়ে ঘরের ভেতরটা আড়াল করা হয়, যা বাইরের ঠান্ডা বা প্রতিকূল পরিবেশ থেকে পরিবারের সদস্যদের খুব একটা সুরক্ষা দিতে পারে না। রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠ কেনার সামর্থ্যও নেই তাদের। 

তাই অনেক সময় কাগজ জ্বালিয়ে রান্নার আগুন তৈরি করতে হয়।সাদেক একটি গাড়ির বিক্রয়কেন্দ্রে কাজ করেন। সেখানে প্রতিটি গাড়ি বিক্রি করতে পারলে এক হাজার আফগানি, অর্থাৎ প্রায় ১৫ ডলার পান তিনি। এত বড় পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস এই সামান্য কমিশন। ফলে সন্তানদের খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে চরম সংকটে পড়তে হয় তাকে।বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাদেক স্বীকার করেন, সন্তানের সংখ্যা এত বেশি যে সবার নামও মনে রাখতে পারেন না তিনি। বেশির ভাগ সময় সন্তানদের ‘ছেলে’ কিংবা ‘বাচ্চা’ বলে ডাকেন। পরিবারের প্রতি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।

সাদেক জানান, তার চার স্ত্রীর প্রত্যেকেই অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। আফগানিস্তানে বাল্যবিয়ে এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। তার কয়েকটি সন্তানও ছোটবেলায় মারা গেছে। এসব মৃত্যুর কিছু ঘটেছে মায়েদের অল্প বয়স ও শিশু লালন-পালনের অভিজ্ঞতার অভাবে বলে মনে করেন তিনি।সাদেকের ভাষ্য, আমি যখন আমার স্ত্রীদের বিয়ে করি, তখন তারা খুবই কম বয়সী ছিলেন। আমার অনেক সন্তান মারা গেছে, কারণ তাদের মায়েরা খুব ছোট ছিলেন। 

তারা জানতেন না কীভাবে শিশুদের যত্ন নিতে হয়, বুকের দুধ খাওয়াতে হয় কিংবা দেখাশোনা করতে হয়। আমার কয়েকটি সন্তান যক্ষ্মা, হুপিং কাশি ও হাম রোগে মারা গেছে।নিজের পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ করে সাদেক বলেন, সন্তানদের খাবারের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও যে এত কঠিন হবে, তা আগে জানলে এত সন্তান নিতেন না তিনি। তবে পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে এত সংকটের মধ্যেও কেন তিনি সন্তান নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।সাদেকের পরিবারের দুর্দশা আফগানিস্তানের বৃহত্তর মানবিক সংকটেরও প্রতিফলন। 

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রতি চারজন মানুষের মধ্যে তিনজনই নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। পাশাপাশি বাল্যবিয়ের ব্যাপকতাও দেশটির অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। ইউনিসেফের ২০২৩ সালের তথ্য বলছে, আফগানিস্তানে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী চার মিলিয়নেরও বেশি নারী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে করেছিলেন। দেশটিতে বাল্যবিয়ের ব্যাপকতা এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।সূত্র: বিবিসি

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।