বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২৫:৪৬

১৫০ কিমি গতিতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

১৫০ কিমি গতিতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগ অতিক্রম করা শুরু হয়। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে।

গত তিন ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ৩ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি। প্রথমে ধীরগতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে পরে উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার সকাল ৭টা ১৬ মিনিটে দেওয়া আইএমডির সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি প্রায় স্থির অবস্থায় ছিল। স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া আরও প্রায় দুই ঘণ্টা চলতে পারে বলে জানানো হয়।

উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু এলাকাগুলোতে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। আইএমডি জানিয়েছে, পরবর্তী তিন ঘণ্টায় স্বাভাবিক জোয়ারের উচ্চতার চেয়ে ১ থেকে ১ দশমিক ৫ মিটার বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এরপর জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশাখাপত্তনমে ভারী বৃষ্টিপাত

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আইএমডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশাখাপত্তনমে ২১৬ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ছাড়া কলিঙ্গপত্তনমে ১৪৭ দশমিক ৫, তুনিতে ১২৩ দশমিক ৩, কাকিনাডায় ১১৮ দশমিক ৪, মাচিলিপত্তনমে ১১৫ দশমিক ২, নারসাপুরে ৪৮ দশমিক ৬, বাপটলায় ১৫ দশমিক ৯ এবং ওঙ্গোলে শূন্য দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বিশাখাপত্তনমে প্রবল বাতাসে গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ইয়ানামেও বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। রামকৃষ্ণ সমুদ্রসৈকত এলাকায় শক্তিশালী বাতাস ও উত্তাল ঢেউ দেখা গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির খবর, সহায়তার আবেদন

অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাডার এক বাসিন্দা ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে তাদের সবকিছু হারিয়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারের আর্থিক সহায়তাও চেয়েছেন তিনি।

এর আগে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওডিশার ৩০টি জেলার মধ্যে ১৬টি জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা এবং বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিলের খবরও পাওয়া গেছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাসহ উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের চার সমুদ্রবন্দরে স্থানীয় সতর্কসংকেত নম্বর ৩ বহাল থাকার কথা জানানো হয়েছে।

সূত্র: ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি), এএনআই ও এনডিটিভি

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।