আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি পুনরায় চালুর নির্দেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। এর ফলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচিটি স্থগিত রাখার সুযোগ পাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সরকারের জরুরি আবেদনের ভিত্তিতে ওই স্থগিতাদেশ জারি করে। আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন আগামী রোববার (১ নভেম্বর) মধ্যে চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ আদেশ দেন। নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন শুরু না হওয়ায় দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।
মামলাটি করে ‘রেড ঈগল ল’ নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে আবেদন নেয়া শুরু না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর কার্যত কর্মসূচিটি আটকে রেখেছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেয়া হয়, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর আবেদন গ্রহণ শুরু করলে কর্মসূচির নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
২০২৭ অর্থবছরের কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় গত আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে এ মামলা করে।
তবে আপিল আদালতের এ সিদ্ধান্তে সরকারের মূল আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি। বরং আপিলের শুনানি চলাকালে নিম্ন আদালতের নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হয়েছে।
রেড ইগলের মালিক কার্টিস মরিসন মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে বলেন, ডিভি কর্মসূচি চালু করতে পররাষ্ট্র দফতরের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত নতুন আইনি পদক্ষেপ নেবে।
আদালত তার আদেশে বলেন, ‘লটারি নিবন্ধন চালু না করার বিষয়ে পররাষ্ট্র দফেতরের ব্যর্থতাকে আমরা সমর্থন করি না। তবে রেড ইগল এই মামলার মূল যুক্তিতে জয়ের সম্ভাবনা দেখাতে পারেনি। কারণ, প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট আইনের সুরক্ষার আওতাভুক্ত নয় এবং এ বিষয়ে মামলা করার আইনি অধিকারও তাদের নেই।’
ডিভি লটারি সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর যোগ্য দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। লটারিতে নির্বাচিত ব্যক্তিরা নির্ধারিত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।
সাধারণত আবেদনকারীদের উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব প্রয়োজন হয় না। তবে লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হওয়া নয়। নির্বাচিত আবেদনকারীদের শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের শর্ত পূরণ করতে হয়। সূত্র: নিউজউইক