সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:২১:৪৭

অবশেষে কে হতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী? যা জানা গেল

অবশেষে কে হতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী? যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নাকি বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোট? সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এ প্রশ্ন ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। 

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে গঠিত বিরোধী জোটের ভেতরেও চলছে দর-কষাকষি। এরই মধ্যে আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন নাফতালি বেনেট এবং ইয়াইর গোলান। সরকার গঠনের জন্য আরব দল ও অতি-ধর্মীয় ইহুদি দলের সঙ্গে কি সমঝোতা করা হবে, তা নিয়ে জোটের নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববারও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাওয়া দলগুলোর মধ্যে নেতৃত্ব ও অবস্থান নিয়ে দর-কষাকষি চলেছে। সামনে জোট সরকার গঠনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। সেখানে দলগুলোকে এমন কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, যার প্রতিটিই নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনো না কোনোটি ভঙ্গ করার শামিল হবে।

বিরোধী জোটের অন্যতম দল ইয়াশারের প্রধান গাদি আইজেনকোট নিজের নেতৃত্ব সুসংহত করার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছেন। এক বিবৃতিতে বিয়াখাদ পার্টির প্রধান নাফতালি বেনেট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকোটকে দেওয়ার সুপারিশ করবেন তিনি। ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়াইর গোলানও একই অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিয়াখাদ পার্টির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণার পুরো সময় বেনেট স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ভোটারদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করবেন তিনি। এখন তিনি সেটিই করছেন।

নেতানিয়াহুর বিরোধিতায় অনড় চারটি জায়নবাদী দল নিয়ে গঠিত ‘চেঞ্জ ব্লক’-এ আইজেনকোটের দল ২১টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বেনেটের বিয়াখাদ পার্টি পেয়েছে ১২টি আসন। এছাড়া আটটি আসন পাওয়া বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টিও আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করবে বলে জানা গেছে।

হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটের চতুর্থ ও শেষ সদস্য দল ইসরায়েল বেইতেনুর প্রধান আভিগদর লিবারম্যানের সঙ্গে শনিবার বৈঠক করেছেন আইজেনকোট। সাতজন সংসদ সদস্য নিয়ে দলটির অবস্থানও সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। রোববারের পরবর্তী সময়ে বিয়াখাদ পার্টির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়াইর লাপিদের সঙ্গেও লিবারম্যানের বৈঠকের কথা ছিল। কয়েক দিনে গোলান ও বেনেটের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন আইজেনকোট।

গত সপ্তাহের নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা বিরোধীদের ‘চেঞ্জ ব্লক’, কোনো পক্ষের হাতেই সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে ও পরে দুই সময়েই আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের বিষয়ে আইজেনকোটের চিন্তাভাবনার বিরোধিতা করে আসছেন লিবারম্যান। হিব্রু সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের বরাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, শনিবারের বৈঠকে আইজেনকোটের নির্বাচনী প্রচারণার সমালোচনা করেন লিবারম্যান। তার যুক্তি, সংখ্যালঘু সরকারের ধারণা সামনে আনার কারণে নির্বাচনে জোটের ক্ষতি হয়েছে।

নেতানিয়াহুবিরোধী চার দলের নেতারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একসঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। প্রথম পর্যায়ে তাদের পরিকল্পনা হলো, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য ও নেসেটের বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে দেওয়া। এর মাধ্যমে আইনসভার কার্যসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং একাধিক বিল পাসের উদ্যোগ নিতে চান তারা। এসব বিলের মধ্যে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।

তবে নতুন স্পিকার কে হবেন, তা নিয়ে জোটের ভেতরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নেসেটের ১২০ সদস্যের মধ্যে ৯০ জনের সমর্থন ছাড়া পরবর্তী সময়ে স্পিকার পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। ফলে একবার কাউকে স্পিকার করা হলে তাকে সরানো কঠিন হবে।

আইজেনকোট নিজেও স্পিকার পদের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। কারণ, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে স্পিকারের পদ ছাড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে তার জায়গায় অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।

ওয়াইনেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে লিবারম্যান আইজেনকোটকে বলেছেন, তার ইয়াশার পার্টির সদস্যদের নেসেটের স্পিকার হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সংসদীয় অভিজ্ঞতা নেই।

এদিকে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, নেসেটের স্পিকার পদ থেকে ওহানাকে সরানোর উদ্যোগ চলতে থাকলে লিকুদ পার্টিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের কোনো আলোচনা হবে না; আইজেনকোটকে এমন বার্তা দিয়েছেন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা।

তবে আইজেনকোটের সহযোগীরা জানিয়েছেন, ওহানাকে সরানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় নেই।

এদিকে বিরোধী জোটের তাৎক্ষণিক পরিকল্পনার মধ্যে আরও রয়েছে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক পদে পুনর্নির্বাচন আয়োজন। চ্যানেল ১২ নিউজ জানিয়েছে, সংসদ সদস্যদের ভোটে এ পদে দ্রুত নতুন নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করবে জোটটি।

জাতীয় ঐক্যের সরকার কিংবা আরব দলগুলোর সমর্থনে জোট গঠনের সম্ভাবনার বাইরে আরও একটি বিকল্প আলোচনায় রয়েছে। সেটি হলো, অতি-ধর্মীয় ইহুদি দলগুলোর বাইরের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা। এ ক্ষেত্রে আরব ও অতি-ধর্মীয় ইহুদি উভয় পক্ষের সমর্থন নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) পার্টির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলটি জানিয়েছে, তারা আর নেতানিয়াহুর জোটের অংশ নয়।

জোট গঠনের আলোচনা সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণে রোববার বৈঠক করেছেন ইউটিজের নেতারা। হিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত একটি ছবিতে দলটির প্রধান ও সংসদ সদস্য ইয়াকভ আশেরকে ইৎজহাক গোল্ডকনফ ও মেইর পোরুশের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে।

দলটির একটি সূত্রের বরাতে হিব্রু ভাষার একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য কোনো প্রার্থীকেই সুপারিশ না করার বিষয়টি বিবেচনা করছে অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের এই দল।

নেসেটের পরবর্তী অধিবেশনে থাকা প্রতিটি দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এসব বৈঠকে দলগুলো পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবে।

এত দিন ইউটিজেকে নেতানিয়াহুর সমর্থক জোটের দৃঢ় সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে ক্ষমতাসীন জোটের চার বছরের মেয়াদে অতি-ধর্মীয় ইহুদি শিক্ষার্থীদের ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আইডিএফ) বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আইন পাস করতে না পারায় দলটি ক্ষুব্ধ।

রোববারের বৈঠকে দলটির নেতারা বলেছেন, আইজেনকোটের কাছ থেকে তারা এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাননি। তাই এ বিষয়ে আলোচনারও কিছু নেই। সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।