বিনোদন ডেস্ক: এফডিসি নির্ভর বাংলা চলচ্চিত্রের প্রভাবশালী নির্মাতা মালেক আফসারী। আশির দশক থেকে দাপটের সঙ্গে টানা সিনেমা নির্মাণ করে আসছেন তিনি। তার বেশীর ভাগ ছবিই ব্যবসাসফলতা পেয়েছে। রাস্তার রাজা, এই ঘর এই সংসার, মৃত্যুর মুখে, মরণ কামড়, লাল বাদশা, আমি জেল থেকে বলছিরে মতো হিট সিনেমা তার দখলে। সর্বশেষ ‘অন্তর জ্বালা’ নির্মাণ করে বিনোদন জগতে রীতিমত আলোচনায় তিনি। ‘অন্তর জ্বালা’কে প্রাসঙ্গিক ধরে খোলাখুলিভাবে আরো নানা বিষয়ে কথা বলেছেন এই নির্মাতা-
আফসারী ভাই, কেমন আছেন? সপ্তাহান্তে ‘অন্তর জ্বালা’র রেসপন্স কেমন দেখছেন?
আমিতো ঢাকায় নাই। ছবি মুক্তির দুইদিন পরেই চলে আসছি নোয়াখালি। নিঝুম দ্বীপের কাছাকাছি। আর ছবির রিয়েকশান নিয়েতো আমি ভাবি না, মাথায়ই নেই না। আমি কোনো সময় আমার ছবি দেখতে কিন্তু হলে যাই না। এটা পাব্লিকের জিনিষ, তারা দেখুক। এটা সম্পূর্ণই তাদের ব্যাপার। আমরা বলে কয়ে মানুষকেতো হলে আটকায়ে সিনেমা দেখাতে পারি না। মানুষ তার পয়সা দিয়ে সিনেমা দেখবে, দেখে যা ইচ্ছা বলবে। এটা মানুষের অধিকার।
ছবি মুক্তির মাঝখানে আপনি যে ঢাকা ছেড়ে গেলেন, তাতে অভিনেতা বা প্রযোজক আপনাকে কিছু বলেনি?
আমি খোঁজ খবর রাখতে পারছি না সিনেমাটার। ফেসবুকে আমাকে সবাই ভালোই বলছে। আমি যেখানে আছি সেখানে নেটওয়ার্কের ঝামেলা, তারপরও জায়েদ প্রতিদিন খোঁজ খবর রাখছে। ফেসবুকে দেখছি জায়েদ পিরোজপুর আরো কোথায় কোথায় যেন যাচ্ছে।
দ্বিতীয় সপ্তাহে কয়টা সিনেমা হলে যাচ্ছে ‘অন্তর জ্বালা’?
‘অন্তর জ্বালা’ কয়টা হলে চললো আমি জানি না, দ্বিতীয় সপ্তাহে কয়টায় যাচ্ছে আমার জানা নেই। সিনেমা বানানোর পর আমি দর্শক হয়ে যাই। এখন আমি দর্শক।
ঢাকায় ফিরবেন কবে?
এখন আপাতত এখানেই থাকবো। কেউ না ডাকলে, বা সিনেমা বানানোর টাকা না দিলে এখানেই থেকে যাবো। আমার বউ-বাচ্চাসহ এখন নোয়াখালি আছি। ওরা ক’দিন পরে চলে যাবে। কিন্তু আমাকে কেউ না ডাকলে আমি এখানেই থেকে যাবো।
কেউ আপনাকে ডেকে সিনেমার প্রস্তাব দিবে বলে মনে করেন?
অনেকেই আগে আমাকে সিনেমা বানানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বিভিন্ন হোটেলে বসতে অফার দিয়েছে। আরাম আয়েশ করে খোশগল্প করে প্রযোজকের কাছ থেকে সিনেমার প্রস্তাবে আমি রাজি না। আমার পরিস্কার কথা, কেউ সিনেমা বানাতে আসলে বা টাকা দিতে চাইলে তাকে এফডিসি আসতে হবে। তারপর তার হাত থেকে আমি টাকা নিবো সাইন করে। তারপর থেকেই আমি সিনেমা বানানো শুরু করবো। এরপর আর সেই প্রডিউসারের খুব দরকার আমার নেই। বাকিটা আমার দায়িত্ব। আপনি যত বড় প্রডিউসারই হোন আমি আপনার অন্যায় আবদার শুনবো না। কাকে নায়ক, কাকে নায়িকা সেটা আরেকজন ঠিক করে দিবে এটাতো আমি শুনবো না।
হ্যাঁ। সিনেমায় ইদানিং এরকম শোনা যায় প্রায়শই…
এইসবকে আমি নোংরামিই বলি। প্রডিউসার যখন নায়িকা ঠিক করে দেয়, তখন ইন্টারনাল ঝামেলা হয়। নায়ক সিনেমার শুটিংয়ের সময় নায়িকার সাথে কথা বলবে, তাদের একটা বোঝা পড়ার ব্যাপার আছে। এটা চিরায়ত নিয়ম। কিন্তু প্রডিউসার টাকা দিচ্ছে বলে এইসব স্বাভাবিক বিষয়ে বাধ সাধে। নায়িকার সাথে অমুক কথা বলতে পারবে না, হাসিমুখে কথা বলতে পারবে না। এসব কিন্তু ঝামেলা। প্রচুর প্রডিউসার এখন শুধু নায়িকা লঞ্চ করাতেই ছবি বানাতে চায়। আমাকেও অনেক প্রডিউসার নায়িকা লঞ্চ করা ছবির প্রস্তাব করেছে। আমি এগুলোর ধার ধারি না। আমার কথা হচ্ছে, তুমি নায়িকাও বানাবা, আবার বউও বানাবা তাতো হয় না। আমি সিনেমা করলে যাকে যেখানে উপযুক্ত মনে করবো সেখানেই নিব। প্রডিউসারের সব কথা শোনার রুচি আমার নাই। আমি মনে করি, আর্টিস্ট পছন্দ থেকে শুরু করে সব বিষয়ে একজন নির্মাতার স্বাধীনতা থাকা উচিত। যেরকম আমি অন্তর জ্বালা ছবির নায়ক হিসেবে জায়েদকে নিলাম। এই চরিত্রে বাংলাদেশের আর কোনো নায়ককে মানাবে না। পরীর ক্ষেত্রেও তাই।
‘অন্তর জ্বালা’ যে হাইপ তৈরি করেছিল, সপ্তাহ শেষেতো তা ধরে রাখতে পারলো না। অনেকেই নেতিবাচক কথা বলেছেন ছবিটি নিয়ে?
সাধারণ মানুষ থেকে সাংবাদিক, অনেকেই ছবিটি নিয়ে কথা বলেছেন। সাংবাদিকরা যা লিখেছেন ছবিটি নিয়ে এটা কিন্তু একেবারে পরিস্কার। তারা ছবির খারাপ দিকগুলোকে নির্ভয়ে বলেছেন। এটা আমার পছন্দ হয়েছে। আমার সাথে কারো ভালো সম্পর্ক আছে বলে কোনো সাংবাদিক ছবিটি নিয়ে ভালো লিখেছে এটা কিন্তু হয়নি। একেবারে স্বাধীনভাবে বিচার করেছে সবাই। লেখাগুলো দেখেছি ইন্টারনেটে।-চ্যানেল আই
এমটিনিউজ২৪.কম/এইচএস/কেএস