নিউজ ডেস্ক : পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টির পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। বৃষ্টি ও তার বান্ধবী রেহনুমা দোলাকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা চাওয়া হয়।
এরপর ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা 'নগদে'র মাধ্যমে টাকা পাঠান স্বজনরা। তবে টাকা দেওয়ার পর থেকে সেই ফোন নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। পুলিশ ও স্বজনদের ধারণা, অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
বৃষ্টির মামা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার ভাগনি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিশু বিকাশ বিভাগে পড়ালেখা করেন। আর রেহনুমা দোলা মিরপুরের একটি আইন কলেজে পড়েন। দু'জনই আবৃত্তিশিল্পী। ২০ ফেব্রুয়ারি একটি অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করে ফিরছিলেন তারা। এরপর তাদের আর খোঁজ মেলেনি।
মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ তারা চকবাজারের আগুনের ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন। তারা আগুনে দগ্ধ হয়েছেন এমন আশঙ্কা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ও মর্গে যান স্বজনরা। কিন্তু তাদের খোঁজ মেলেনি।
এর মধ্যে ২১ ফেব্রুয়ারি বৃষ্টির বাবা জসীম উদ্দিনের মোবাইল ফোনে কল করে বলা হয়, মেয়েকে ফেরত চাইলে এক লাখ টাকা পাঠাতে হবে। পরদিন তারা 'নগদ' ওয়ালেটে ৫০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু দুই শিক্ষার্থীকে ফেরত দেয়নি কথিত অপহরণকারীরা। বরং তাদের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বৃষ্টির বাবা জসিম উদ্দিন। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার এসআই মামুন হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এটি প্রতারক চক্রের কাজ বলেই মনে হচ্ছে। মোবাইল ফোন প্রযুক্তির সাহায্যে জানা গেছে, টাকা নেওয়ার সময় প্রতারকদের অবস্থান ছিল চট্টগ্রামে।
আবার আগুনের ঘটনাস্থলের কাছের একটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টি ও দোলা ১০টা ২৬ মিনিটে চুড়িহাট্টার দিকেই যাচ্ছেন। অর্থাৎ আগুনে তাদের হতাহত হওয়ার শঙ্কাই বেশি। তবে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটির তদন্ত করছে। অপরাধীদের গ্রেফতার করা গেলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। -সমকাল