বিনোদন ডেস্ক: একসময়কার নিয়মিত অভিনেতা ছিলেন টনি ডায়েস। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বহু আগেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন এ জনপ্রিয় অভিনেতা। প্রিয় এ অভিনেতার প্রবাস জীবনের প্রতি আগ্রহ আছে অনেক অনুরাগীরই। তাই মাঝেমধ্যেই প্রবাসে তার দৈনন্দিন জীবনের নানা খবরাখবর, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে বেশ কয়েকবার বিনোদন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসেন তিনি। অভিনয়ে টনিকে নিয়মিত দেখা না গেলেও ভক্ত ও কাছের মানুষদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ঠিকই সক্রিয় থাকছেন তিনি।
৭ মার্চ একমাত্র মেয়ে অহনা ডায়েসের সঙ্গে তোলা বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন টনি। ছবিগুলোর সঙ্গে মেয়েকে নিয়ে একটি আবেগপ্রবণ লেখা পোস্ট করেন এ অভিনেতা। ওই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘মেয়েটা গতকাল প্রথম বারের চেষ্টায় নিউ ইয়র্কের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেল। এখন সে অফিসিয়ালি একাই গাড়ি চালাতে পারবে। গাড়িটা কিনে রেখেছিলাম বছর খানেক আগেই। সে গাড়ি দিয়েই তার হাতেখড়ি। আজ অফিসিয়ালি চাবি হস্তান্তর। এখন সে হাই স্কুলে।’
‘সিনিয়র, মানে আমাদের সে সময়কার এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষ। সে সময় মা আমাকে তার কষ্টের উপার্জন দিয়ে ক্যান্টনমেন্টের আর্মি স্টোর থেকে একটা ফোনিক্স বাইসাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। সে সাইকেলে চড়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে যাওয়া, টিএসসিতে যাওয়া, আবৃত্তি শেখা, আগারগাঁও বেতার ভবনে সকালের “দর্পণ” ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করতে যাওয়া, বেইলি রোডের নাগরিকের মহড়া কক্ষে মঞ্চে কাজ শেখা, পাশাপাশি ঢাকা শহরে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াতাম সেই সাইকেলে চড়ে।’
‘আজ যখন চাবিটা দিলাম, মেয়েটা বলে উঠল, “এখন থেকে তোমাকে সকালে কষ্ট করে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আসতে হবে না, আর মামণিকেও কষ্ট করে নিয়ে আসতে হবে না।” বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল, বলে কী মেয়েটা! সেই ছোটবেলার প্রথম দিনের স্কুল থেকে শুরু করে কাল অবধি আমরাই নামিয়ে দিয়েছি ও নিয়ে এসেছি।
সময় কত দ্রুত চলে যায়। নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম। পরিবর্তনকে মেনে নিতে হয়। তাহলেই সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়। এখন মেয়েটা নিউ ইয়র্ক শহর ঘুরে বেড়াবে। পৃথিবী ঘুরে বেড়াবে। হ্যাঁ, মা জীবনটা সুন্দরভাবে উপভোগ করো। জীবন তো একটাই। আর এও জানি, বেলা শেষে পরিবারই সব। শেকড়টাই আসল। পাশে থাকা সবাই একসময় হয়তো দূরে চলে যাবে কিন্তু পরিবার সবসময় পাশেই থাকবে। সে শিক্ষাই তো তোকে দেয়ার চেষ্টা করেছি। অনেক আদর আর ভালোবাসা রইলো। ধন্যবাদ প্রিয়াকে (টনি ডায়েসের স্ত্রী প্রিয়া ডায়েস) ঠান্ডার মধ্যে ছবিগুলো তোলার জন্য।’
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে টনি ও প্রিয়ার মেয়ে অহনার বয়স হবে ১৮। মা-বাবা সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত, সেই সুবাদে তাদের মেয়ে অহনাও সংস্কৃতিমনা। মিডিয়া নিয়ে তার পড়াশোনা চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।