বিনোদন ডেস্ক : নববধূ, হিন্দু রীতি মেনে বিয়ে করেছেন হিন্দুকে৷ ফলে হিন্দু নারীর মতোই সিঁথি ভরে গিয়েছে সিঁদুরে৷ আর তা নিয়েই যত শোরগোল৷ পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের সাংসদ নুসরাত জাহানের নতুন রূপ দেখে তেড়ে উঠেছে মুসলিম সংগঠনগুলির একাংশ৷
আর এনিয়ে হিন্দুত্ববাদী নেত্রী সাধ্বী প্রাচীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন সংগঠনের সদস্যরা৷ নুসরাত জাহান রুহি জৈন৷ নিখিল জৈনকে বিয়ে করার পর এটাই তার নতুন নাম৷ এই নামেই সংসদে শপথবাক্য পাঠ করেছিলেন বসিরহাটের তারকা সাংসদ৷ সেদিন তার চেহারা ছিল চোখে পড়ার মতোই৷
পরনে বেগুনিপাড় সাদা শাড়ি, হাতে চূড়া, সিঁথিতে সিঁদুর৷ সংসদ ভবনে সেদিন সকলেরই নজর কেড়েছিলেন তিনি৷ তারপর অধিবেশনে একেবারে নব্য সাংসদের বক্তব্যও প্রশংসিত হয়৷ কিন্তু এসবের পরও সমালোচনা উর্ধ্বে উঠতে পারলেন না তারকা৷ কেন মুসলিম মেয়ে হয়ে সিঁদুর পরার মতো হিন্দু রীতিকে একাত্ম করেছেন, সেই প্রশ্ন তুলে হইহই ফেলে দিয়েছন একদল ইমামের৷
মুফতি আসাদ ওয়াসিম নামে এক ইমান বলছেন, ‘আমরা তদন্ত করে দেখেছি, নুসরাত এক হিন্দুকে বিয়ে করেছেন৷ কিন্তু ইসলাম মতে, একজন মুসলিম মেয়ে শুধু মুসলিম ছেলেকেই বিয়ে করতে পারে৷ দ্বিতীয়ত, কে বলেছে নুসরাত একজন অভিনেত্রী বলে ধর্ম মানবেন না? তাঁরা কী করছেন না করছেন, সে বিষয়ে তাঁদের অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত৷ ও তো সংসদে গিয়েছে মঙ্গলসূত্র, সিঁদুর পরে৷ আমরা ওকে নিয়ে চর্চা করতে চাই না৷ শুধু বলতে চাইছি যে শরিয়তি আইন এর বিপক্ষে৷’
একই সঙ্গে শপথ পাঠের সময়ে নুসরতের মুখে বন্দেমাতরম স্লোগান নিয়েও সরব হয়েছেন ইমাম মুফতি কাসাম। তিনি বলেছেন, “ইসলাম ধর্মে বন্দেমাতরম বলা যায় না। সাংসদে শপথের সময়ে সেটাই বলেছেন নুসরত। বিষয়টি ইসলাম বিরুদ্ধে। এর বেশি আর কিছু বলব না।”
আরেক মৌলবী কারির কথায়, ‘এরা সব বেলাগাম৷ দেশে আগুন জ্বালাতে চাইছে৷ ওদের কোনও ধর্ম সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই৷ ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতির কথা বলে৷ কিন্তু এবার সেসবের কিচ্ছু জানে না৷’
এই বক্তব্য শোনার পর তেড়েফুঁড়ে উঠেছেন সাধ্বী প্রাচী৷ নুসরাতের পাশের দাঁড়িয়ে তার পালটা বক্তব্য, ‘‘যদি একজন মুসলিম মহিলা হিন্দুকে বিয়ে করে টিপ, সিঁদুর, মঙ্গলসূত্র এসব পরেন, তাহলে মুসলিম মতে তা ‘হারাম’ বলে ধরা হয়৷ এটা আমার কাছে দুঃখের৷ আমি বলতে চাই, লাভ জেহাদের নামে যখন মুসলিমরা হিন্দু মেয়েকে নিয়ে গিয়ে তাকে বোরখা পরতে বাধ্য করে, তখন তা ‘হারাম’ বলে কেন ধরা হবে না?’
বোঝাই যাচ্ছে, সাংসদ হিসেবে নুসরাতের পারফরম্যান্সের দিকে ততটা নজর নেই অনেকেরই, যতটা রয়েছে তার সাজপোশাকের দিকে৷ এও এক খ্যাতির বিড়ম্বনা আর কি…! নুসরাত অবশ্য এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানিয়েছেন, তার নজরে আসার জন্যই কিছু মানুষ এসব করছেন।
তিনি বলেন, আমরা এদের এড়িয়ে যাওয়া ছাড়া আর কি করতে পারি বলুন? একজন হিন্দুকে বিয়ে করা মানে এই নয় যে আমি আমার মুসলিম স্বত্তা বিসর্জন দিয়ে দিয়েছি। মুসলিম পরিবারে জন্মেছেন আর সেই আভিজাত্যই বজায় রেখে যাবেন। কিন্তু অন্য ধর্মকে সম্মান করাতে দোষের কিছু নেই!