বিনোদন ডেস্ক : নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা শিল্পী। ১৯৯৫ সালে আমিন খানের বিপরীতে ‘বাংলার কমান্ডো’ ছবি দিয়ে তার অভিষেক ঘটে। প্রথম আলোচনায় আসেন নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘বাবা কেন চাকর’ ছবি দিয়ে।
পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে কাজ করেছেন বিভিন্ন ছবিতে। আমিন খান, বাপ্পারাজ, মান্না, রিয়াজ, রুবেলসহ বেশ কজন জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন। অমর নায়ক সালমান শাহের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছিলেন মাত্র একটি ছবিতে।
‘প্রিয়জন’ নামের সেই ছবিটি শিল্পী ক্যারিয়ারে অনন্য এক পালক যোগ করেছে। সালমানের সঙ্গে শিল্পীর সম্পর্কটা ছিল বেশ মধুর। সেই সম্পর্কের সমুদ্রে বহুদিন পর স্মৃতির জাহাজ ভাসালেন নায়িকা।
শিল্পি বলেন, এটা সৌভাগ্য যে সালমানের সঙ্গে একটি ছবি করতে পেরেছি আমি। সাধারণত আমরা যারা নব্বই দশকে কাজ করেছি তাদের নিয়ে দর্শকের অন্যরকম একটা ভালো লাগা বা আবেদন কাজ করে। আজও সবচেয়ে বেশি শুনেছি এই কথাটি যে- আপনি সালমান শাহের নায়িকা না? ‘এ জীবনে যারে চেয়েছি’ গানের কথা বলে।
নব্বই দশকের জনপ্রিয় এই নায়িকা বলেন, এটা সত্যি দারুণ ব্যাপার যে মাত্র একটি ছবি করেছি যে নায়কের সঙ্গে তার নায়িকা হিসেবেই মানুষ আমাকে বেশি চেনে বা জানে। অনেকে সালমানের নায়িকা জানার পর সালমানের ভক্ত হিসেবে অনেক পাগলামির কথা বলেন। একবার ডাক্তার দেখাতে গেলাম এক চেম্বারে, তিনিও সালমানের নায়িকা হিসেবে আমাকে নোটিশ করলেন।
শিল্পি বলেন, আসলে সালমান নব্বই দশকের টিএনজারদের প্রিয় নায়ক ছিলো। আইকন ছিলো সে। আজকে অনেক এসপি-ডিসি-ডাক্তার বা বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিতরা সালমান ভক্ত ছিলেন। সালমান সবশ্রেণির মানুষের কাছে নিজেকে জনপ্রিয় করে তুলতে পেরেছিলো। এটাই ওর সবচেয়ে বড় ম্যাজিক বা সাফল্য।
প্রিয়জন ছবিতে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই নায়িকা বলেন, অনেক মজা করতো সালমান সেটে। মেকাপ রুমে এসে পর্যন্ত জ্বালাতো। হয়তো আমি চোখে কাজল দিচ্ছি ও পেছন থেকে এসে বলতো, ‘ইশ, কেন যে কাজল হলাম না।’ হয়তো ঠোঁটে লিপস্টিক দিচ্ছি। ও দেখতে পেরেছে বা জানতে পেরেছে। পেছনে দাঁড়িয়ে সিনেমার সংলাপ দেয়ার স্টাইলে বলতো, ‘হায়রে, নায়িকার লিপস্টিক হতে পারলাম না!’ তার মুখে এসব শুনে শুনে আমি লজ্জায় লাল হতাম।