বিনোদন ডেস্ক : ক'দিন আগেই শোনা গেল মৌসুমীর বিপক্ষে বলছেন অভনেতা ডিপজল। আবার মৌসুমীও ডিপজলের বিপক্ষে কথা বলছেন। কিন্তু চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের দিন দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।
আজ শুক্রবার সাড়ে ১২টার দিকে ভোটকেন্দ্রের নিকট পেতে রাখা আসনে বসে থাকা আফজাল শরীফের সাথে কথা বলতে আসেন মৌসুমী।
আফজাল শরীফের সঙ্গে কথা বলার সময় পাশে বসে থাকা ডিপজল দু'-একটি কথার উত্তর দিচ্ছিলেন মজা করেই। মৌসুমীও কম যান না, তিনি বললেন ডিপজল ভাইয়ের চোখ দেখলেই তো সবাই ভয় পেয়ে যায়। বলেই হেসে ওঠেন প্রিয়দর্শিনী। এসময় হাসতে শুরু করেন ডিপজলও।
বেশ কয়েক মিনিট মৌসুমী-ডিপজল কথা বলেন। এসময় বারবার মজার কথায় দুজনেই হেসে উঠছিলেন। অর্থাৎ বলা যায় বরফের যে দেয়াল তৈরি হয়েছিল এই দুজনের মধ্যে তা নির্বাচনের দিন গলে গেল।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় রাজধানীর বিএফডিসিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ভোট দিয়ে গেছেন অনেক তারকা শিল্পী। বৃষ্টিমুখর পরিবেশেও বেশ জমে উঠেছে এফডিসি। ভোটকেন্দ্রের সামনে দেখা গেল দুই বিদেশিকে। শুধু তাই নয়, তাদের শরীরে আবার অভিনেতা ডিপজলের ছবি সম্বলিত টি-শার্ট।
কাছে গিয়ে কথা বলতেই বোঝা গেল আসলে তারা কেউই কথা বলতে পারেন না। মূক ও বধির। এসেছেন নির্বাচন দেখতে। তাদের সাথে খাতা কলমে লিখে কথা বলতে হলো। জানা গেল, একজনের নাম চোনা, অপরজনের নাম পেচিনো। দুজনই চীনের নাগরিক। এফডিসিতে এসেছেন ভোট দেখতে। তাদের নিয়ে এসেছেন তিনজন বাংলাদেশি মূক ও বধির যুবক।
সাথে থাকা এক যুবক জানান, চিত্রনায়ক রুবেলের মাধ্যমে একটি সংস্থার হয়ে তারা এসেছেন। বেশ ক'জন ডিপজল সমর্থক তাদের টি-শার্ট উপহার দেন। সেটা পরে বেশ আনন্দচিত্তে পরিধান করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
শুক্রবার পৌনে ১১টার দিকে অপু বিশ্বাস ভোট দিয়ে বের হন। এরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাথে বলেন। মান্না ডিজিটাল কালার ল্যাব থেকে ক্যান্টিন পর্যন্ত যেতে পারছিলেন না সেলফিবাজদের কারণে। এ সময় ওমর সানী ছুটে এসে অপু বিশ্বাসকে সেলফিবাজদের কবল থেকে উদ্ধার করে গাড়িতে পৌঁছে দেন।
এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রার্থী সভাপতি পদে লড়ছেন। তিনি জনপ্রিয় চিত্র নায়িকা মৌসুমী। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
এদিকে, সভাপতি পদে মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মিশা সওদাগর। বর্তমান শিল্পী সমিতির সভাপতিও মিশা সওদাগর। সহ সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল, রুবেল, নানা শাহ। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান এবং ইলিয়াস কোবরা।
সাংগঠনিক পদে প্রার্থী হয়েছেন সৃব্রত। তার বিপরীতে কোনো প্রার্থী নেই। আন্তর্জাতিক পদে প্রার্থী হয়েছেন নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ, নায়ক ইমন। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন জ্যাকি আলমগীর।
সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পড়ে লড়ছেন দুইজন। তারা হলেন জাকির হোসেন ও ডন। কোষাধ্যক্ষ পদে অভিনেতা ফরহাদ নির্বাচন করছেন একা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী নেই।
কার্যকরী সদস্য পদ রয়েছে ১১টি। এই পদগুলোর জন্য প্রার্থী হয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন রোজিনা, অঞ্জনা, অরুণা বিশ্বাস, বাপ্পারাজ, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, রঞ্জিতা, আসিফ ইকবাল, অলেকজান্ডার বো, জয় চৌধুরী, নাসরিন, মারুফ আকিব, শামীম খান ও জেসমিন। এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।